Suvendu Adhikari : টোটো ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেফতার বিজেপি কর্মী, বাড়িতে হেনস্থার দাবি—নন্দীগ্রাম থানায় পুলিশ বনাম শুভেন্দু মুখোমুখি!

নন্দীগ্রামের রাজনীতি বরাবরের মতোই উত্তপ্ত। ছোট একটি ঘটনার রেশ যে এত দ্রুত বড় রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, তা সাম্প্রতিক ঘটনাই ফের দেখিয়ে দিল। এলাকার অন্দরে চাপা উত্তেজনা, দলীয় টানাপড়েন এবং পুলিশের ভূমিকা—সব মিলিয়ে নন্দীগ্রাম যেন আবারও রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। শুরুটা হয়েছিল একটি টোটো ঘিরে, কিন্তু শেষমেশ তা পৌঁছেছে থানার ভিতরে সরাসরি রাজনৈতিক হুঁশিয়ারিতে।

দিন দু’য়েক আগে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ নামের একটি টোটোর উদ্বোধন হয়। শাসকদলের দাবি, এই টোটোতে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ভাঙচুর চালায়। ছিঁড়ে ফেলা হয় পোস্টার ও ফ্লেক্স। ঘটনার পরের দিন নন্দীগ্রাম থানায় বিজেপির কয়েক জন নেতার নামে অভিযোগ দায়ের করে তৃণমূল। অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করে ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের এক বিজেপি মণ্ডল সভাপতির ভাইকে।

এই গ্রেফতারিকে ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। বিজেপির অভিযোগ, শুধু গ্রেফতার নয়, তার আগের রাতে সাদা পোশাকের পুলিশ ওই বিজেপি কর্মীর বাড়িতে যায়। অভিযুক্ত কর্মী বাড়িতে না থাকায় তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি মারধরের অভিযোগও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদেই শনিবার সকালে নন্দীগ্রাম থানায় হাজির হন স্থানীয় বিধায়ক ও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

থানার ভিতরে ঢুকে চড়া মেজাজে পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন, কার নির্দেশে মহিলা ও শিশুকে হেনস্থা করা হয়েছে। থানার মধ্যেই তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে এর ফল ভুগতে হবে।” তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বিজেপি কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে এবং ভয় দেখিয়ে ‘তৃণমূলীকরণ’-এর চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ Humayun Kabir : ‘মুসলিমদের সঙ্গে গদ্দারি করেছে তৃণমূল’—১৮২ আসনে লড়াইয়ের ঘোষণা হুমায়ুনের, ভোটের আগে রাজনীতিতে বড় মেরুকরণ!

শুভেন্দু নিজের সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন, যেখানে ওই মহিলা ও শিশুকে দেখা যায় এবং পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁর তোপ স্পষ্ট। যদিও ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই হয়নি। অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজিত রায় পাল্টা দাবি করেন, বিজেপিই এলাকায় অশান্তি ছড়াচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি কর্মীরা তৃণমূলের সম্পত্তিতে ভাঙচুর করলে পুলিশ নীরব থাকতে পারে না। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে, আর এই সংঘাত কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর গোটা এলাকার।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles