রাজ্য রাজনীতির ময়দানে আবারও নড়চড় শুরু হয়েছে। ভোট এখনও অনেক দূরে, কিন্তু তার আগেই নতুন সমীকরণ, নতুন দাবিদাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিন ধরে যে দ্বিমুখী লড়াইয়ে অভ্যস্ত বাংলা—তৃণমূল বনাম বিজেপি—সেই ছকে কি এবার ভাঙন ধরতে চলেছে? এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ, রাজ্যের এক প্রভাবশালী বিধায়কের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে একের পর এক বড় ঘোষণা, যা কার্যত রাজনীতির মানচিত্র বদলে দেওয়ার দাবি করছে।
এই আবহেই নিজের রাজনৈতিক দল জনতা উন্নয়ন পার্টিকে সামনে রেখে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি আরও জোরদার করলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শনিবার তিনি জানিয়ে দেন, আগের পরিকল্পনার তুলনায় অনেক বেশি আসনে লড়াই করতে চলেছে তাঁর দল। প্রথমে যেখানে ১৩৫টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, সেখানে এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৮২। শুধু তাই নয়, তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—এই লড়াই নিছক উপস্থিতি জানানোর নয়, বরং ফল নির্ধারণের লড়াই।
হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর দলের মূল লক্ষ্য বিজেপিকে আটকানো। তবে সেই লক্ষ্যপূরণে এককভাবে নয়, জোট রাজনীতির পথেই হাঁটতে চাইছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফ-এর সঙ্গে জোটের কথা ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন। পাশাপাশি, আসাদউদ্দিন ওয়েইসির নেতৃত্বাধীন মিমের সঙ্গেও আলোচনার দরজা খোলা রেখেছেন। যদিও আইএসএফের তরফে এখনও পর্যন্ত এই জোট নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
শুধু আসনসংখ্যা বা জোট নয়, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও যথেষ্ট আক্রমণাত্মক হুমায়ুন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচনা করে তিনি দাবি করেছেন, মুসলিম সমাজের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি গদ্দারি করেছে শাসকদলই। বিশেষ করে ওয়াকফ আইন প্রসঙ্গে তৃণমূলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সুরে হুমায়ুনের দাবি, ১৮২ আসনে লড়ে এমন ফল হবে, যা বাংলার রাজনীতিতে আগে কেউ দেখেনি।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee :‘আমরা বাংলাভাষী পরিযায়ীদের পাশে আছি’— ওড়িশায় সুতির শ্রমিক হত্যা*কাণ্ডে সরব মুখ্যমন্ত্রী!
ভোটের প্রস্তুতি যে তিনি কতটা গুরুত্ব দিয়ে নিচ্ছেন, তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। দিনে তিনটি করে বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচার, প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহার—সব মিলিয়ে আক্রমণাত্মক রণকৌশলের কথাই শোনা যাচ্ছে। তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস কিংবা সিপিএম—কোনও দলকেই তিনি ভয় পাচ্ছেন না বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। এখন দেখার, আইএসএফ ও মিম শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে জোটে আসে কি না। কারণ সেই সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করছে, বাংলার রাজনীতিতে এই নতুন সমীকরণ কতটা বাস্তব রূপ নেয়।





