কলকাতার ব্রিগেড গ্রাউন্ডে রবিবারের গীতাপাঠকে ঘিরে যে উত্তেজনার শুরু, তা এখন রাজ্য রাজনীতিকে নতুন করে সরগরম করে তুলেছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিন সাধারণ খাবার বিক্রি নিয়েও যে এত বড় সংঘাত তৈরি হতে পারে, তা অনেকেই ধারণা করেননি। অথচ সপ্তাহের মাঝামাঝি এসে দেখা গেল, এই ঘটনাই বিরোধী-তৃণমূল রাজনৈতিক আক্রমণের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
জামিনে মুক্তি পাওয়া তিন যুবকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যের বর্তমান প্রশাসন “হিন্দু-বিরোধী” রূপ নিয়েছে এবং পুলিশের ভূমিকা নাকি ‘মুসলিম লিগের পুলিশ’-এর মতো হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি আরও অভিযোগ তোলেন যে প্যাটিস বিক্রেতাদের উপর হামলার ঘটনায় রাজ্য সরকারের নীরবতাই প্রমাণ করে—এটি নাকি পরিকল্পিতভাবে চাপা দেওয়ার চেষ্টা। শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, ধৃত তিনজন—সৌমিক গোলদার, স্বর্ণেন্দু চক্রবর্তী এবং তরুণ ভট্টাচার্য—এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের বাড়িতে সিসিটিভি বসানোর পরামর্শ দেন এবং বেসরকারি সিকিউরিটি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার। গীতাপাঠ চলাকালীন অভিযোগ ওঠে যে ওই মাঠে চিকেন প্যাটিস কেন বিক্রি করা হচ্ছে—এই অজুহাতে দুই বিক্রেতাকে হেনস্তা করা হয়। এক বিক্রেতাকে নাকি কান ধরে ওঠবস করতেও বাধ্য করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বাক্সে থাকা প্রায় তিন হাজার টাকার খাবার নষ্ট করে দেওয়া হয়। আক্রান্ত শেখ রিয়াজুল এবং মহম্মদ সালাউদ্দিন পরে ময়দান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এফআইআর-এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হলে ভিডিও ফুটেজ দেখে সৌমিকদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
যদিও বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে ধৃত তিনজন জামিন পান। তাঁদের আইনজীবীদের দাবি—ওই দিন ভেজ বলে প্যাটিস বিক্রি করা হচ্ছিল। অপরপক্ষে সরকারি আইনজীবী জানান, বিক্রেতাদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন এক প্যাটিস বিক্রেতার বিরুদ্ধেও পালটা অভিযোগ দায়ের হয়।
আরও পড়ুনঃ Surya Mangal Yuti: নতুন বছরে সূর্য ও মঙ্গলের বিশেষ কৃপায় ৪ রাশির ঘরে আসবে সৌভাগ্য
ঘটনার জেরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বৃহস্পতিবার সভা থেকে সরব হন। তিনি বলেন, “বাংলা উত্তরপ্রদেশ নয়। যারা মারধর করেছে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।” পাশাপাশি পাঁচ লাখ কণ্ঠে গীতাপাঠ কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে জানান—ধর্মাচরণ ব্যক্তিগত, তার প্রদর্শন করা রাজনীতির বিষয় নয়। সেই সঙ্গে এনআরসি ও ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়েও আশ্বাস দেন তিনি—বাংলায় এ ধরনের আতঙ্কের কোনও জায়গা নেই। অর্থাৎ ব্রিগেডের প্যাটিস-কাণ্ড এখন কেবল একটি হেনস্তার অভিযোগ নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।






