Chingrighata metro : ৩৬৬ মিটার কাজও শেষ হয়নি! চিংড়িঘাটা মেট্রো জটে ফেঁসে জনগণ, হাই কোর্টে ফের চাপ কেন্দ্র–রাজ্যের উপর!

শহরের পূর্ব ও দক্ষিণাংশের হাজারো মানুষের যাতায়াতের ভরসা সেই নিউ গড়িয়া–বিমানবন্দর মেট্রো লাইন। দীর্ঘদিন ধরে কাজ প্রায় শেষের পথে হলেও চিংড়িঘাটা এলাকায় ছোট্ট এক অংশের কারণে পুরো প্রকল্পই যেন থমকে আছে । এই অচলাবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ যেমন বাড়ছে, তেমনই আদালতও বিষয়টিকে গুরুতর বলে মনে করছে। ফলে চিংড়িঘাটার বিতর্কিত অংশ নিয়ে বিচারপতিদের নজর এখন আরও তীক্ষ্ণ।

কলকাতা হাই কোর্ট আগেই জানিয়েছিল, চিংড়িঘাটার মেট্রো নিয়ে সময় নষ্ট করার আর সুযোগ নেই। কেন্দ্র, রাজ্য ও প্রকল্প-সংক্রান্ত সব পক্ষকে নিয়ে সদর্থক আলোচনায় বসতে হবে। আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট পক্ষরা বৈঠকে বসার জন্য নিজেদের প্রতিনিধিদের নামও জমা দেয়। এই মামলাটি শুনছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ, যারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—“অযথা দেরি নয়, দ্রুত সমাধানের পথে এগোতে হবে।”

এরপর শুক্রবার আদালত আরও একধাপ এগিয়ে বৈঠকের দিন-ক্ষণও বেঁধে দেয়। জানানো হয়েছে, আগামী বুধবার বিকেল ৫টায় মেট্রো ভবনে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার, মেট্রো কর্তৃপক্ষ এবং নির্মাণকারী সংস্থা আরভিএনএল সহ সমস্ত পক্ষকে উপস্থিত থাকতে হবে। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তও ওই বৈঠকে যোগ দেবেন। আদালত বলেছে, আলোচনা শুধু বৈঠক করলেই হবে না—তা হতে হবে “সদর্থক” এবং জনস্বার্থকে মাথায় রেখে। অর্থাৎ প্রকল্প দ্রুত কীভাবে সম্পূর্ণ করা যায়, তার বাস্তবসম্মত রূপরেখা তৈরি করাই মূল উদ্দেশ্য।

বর্তমানে নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু হলেও বিমানবন্দর পর্যন্ত যাত্রা এখনও স্বপ্নই। পুরো প্রকল্প প্রায় শেষ হয়ে গেলেও মাত্র ৩৬৬ মিটার অংশে কাজ আটকে আছে চিংড়িঘাটার জটিলতার কারণে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এই জায়গাটিই সব সমস্যার কারণ। নভেম্বর মাসে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মেট্রো কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, পুলিশ ছাড়পত্র না পাওয়ায় কাজ আটকে আছে। সেই বিষয়ও আদালতের সামনে তোলা হয়।

আরও পড়ুনঃ Kolkata Geeta path: গীতাপাঠের দিনে ‘চিকেন প্যাটিস’ কাণ্ডে তোলপাড় ব্রিগেড! জামিনে মুক্ত তিন অভিযুক্তকে ঢাল হলেন শুভেন্দু, সরাসরি নিশানায় এবার মুখ্যমন্ত্রী!

হাই কোর্ট জানিয়েছে, ১৭ ডিসেম্বর বৈঠক শেষে ১৯ ডিসেম্বর আবার আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। বৈঠকে কী আলোচনা হল, কোন ধারায় এগোবেন সব পক্ষ—সেটাই ফের খতিয়ে দেখবেন বিচারপতিরা। শহরের হাজারো মানুষের স্বার্থে তাই আদালত চাইছে, চিংড়িঘাটার জট শীঘ্রই কাটুক এবং বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা শুরু হোক। এখন নজর আগামী বুধবারের বৈঠকে—সেই বৈঠকই ঠিক করবে প্রকল্প কোনদিকে এগোবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর