BJP: একসঙ্গে তিন তীর—কলেজস্ট্রিট কাঁপালেন দিলীপ-সুকান্ত-শুভেন্দু, নিশানায় তৃণমূল সরকার!

কলকাতার(kolkata) কলেজ স্ট্রিট – বইপাড়ার স্নিগ্ধ গন্ধ, চায়ের কাপ আর ছাপাখানার শব্দ যেন হঠাৎই মিশে গেল এক রাজনৈতিক আগুনে। রবিবারের বিকেলবেলা, যখন শহর একটু নিস্তেজ হতে বসেছে, তখনই যেন নবজাগরণের মতো চাঙ্গা হয়ে উঠল কলেজ স্ট্রিট চত্বর। পুজোর আগে এমন ভিড় ও উত্তেজনা শেষ কবে দেখা গিয়েছে, মনে করতে পারছে না কেউ। ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, সাধারণ মানুষ—সকলেই ভিড় করলেন একটাই কারণে—কী বলতে চলেছেন রাজ্য রাজনীতির প্রথম সারির তিন নেতা।

বাংলা রাজনীতিতে ব্যক্তিগত মতভেদ, দলে ভাঙন কিংবা নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব—এসব নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেইসব কাটিয়ে যদি তিনজন পোড় খাওয়া নেতা একসঙ্গে একই মঞ্চে হাজির হন, তবে তা নিঃসন্দেহে এক বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। একদিকে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, অন্যদিকে বর্তমান সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং সঙ্গে রয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির এই তিন হেভিওয়েট নেতাকে এক মঞ্চে দেখতে পেয়ে চমকে গিয়েছেন অনেকেই।

তাঁরা যেন একটাই সুরে আওয়াজ তুললেন—“এই সরকারের বিসর্জন চাই!” কলেজ স্ট্রিটের সভায় উঠে এল দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—চাকরি কেলেঙ্কারি এবং মুর্শিদাবাদের অশান্তি। ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে গত শুক্রবার থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ। সেখানে পুলিশ কার্যত ব্যর্থ—এই অভিযোগেই সরকারকে বিঁধলেন এই তিন নেতা। দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে জনবিরোধী সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে।” যদিও এখানেই থেমে থাকেননি তাঁরা।

কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী শনিবার রাতে রুটমার্চ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্যের ডিজিপি রাজীব কুমার সেখানে পৌঁছে বৈঠকও করেন বিএসএফের সঙ্গে। যদিও রাজ্য পুলিশের দাবি, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু বিরোধীরা বলছেন, যদি পুলিশ সত্যিই সক্রিয় হতো, তাহলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “যেখানে যেখানে পুলিশ নেই, সেখানেই শান্তি থাকে। আর পুলিশ থাকলেই গোলমাল হয়!”

আরও পড়ুনঃ Ssc scam : ‘রাজনীতি চাই না’ বলে আন্দোলন, অথচ তৃণমূল নেতার অযোগ্য মেয়ে অঙ্কিতা সামনের সারিতে! তাহলে কি আন্দোলনও এখন তৃণমূলের নাটক?

সর্বোপরি, এদিনের সভার মূল চমক ছিল বিজেপির তিন মুখ্য নেতার একসঙ্গে উপস্থিত হওয়া। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন—দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব ভুলে কি তবে বিজেপি এবার একযোগে লড়াইয়ের বার্তা দিল? শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই সরকার দুর্নীতির পাহাড়ে বসে আছে। এবার সময় এসেছে জনতার রায় দেওয়ার।” সভা শেষে সাধারণ মানুষের চোখেমুখেও ছিল উৎসাহ—কেননা বহুদিন পর তাঁরা দেখলেন, একই লক্ষ্য সামনে রেখে বিজেপির তিন নেতা একসঙ্গে এক সুরে আওয়াজ তুলছেন, আর বলছেন—“এই সরকারের বিসর্জন চাই!”

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles