রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া ক্রমেই তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্বাচন এখনও বেশ কিছুটা দূরে, কিন্তু তার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর আগমন ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এক তৃণমূল বিধায়কের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনীতি। শাসক-বিরোধী তরজা এখন চায়ের দোকান থেকে সামাজিক মাধ্যম—সব জায়গাতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ঘটনার সূত্রপাত বাসন্তীর তৃণমূল বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল-এর বক্তব্য ঘিরে। বিধানসভায় তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায় এলেই গ্রাম বাংলার মহিলারা ঝাঁটা হাতে প্রতিবাদে নামবেন, প্রয়োজন হলে ঝাঁটাপেটাও করবেন। তাঁর দাবি, সাধারণ নাগরিকদের ভয় দেখানো এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই এত আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হচ্ছে। যদিও এখনও ভোট ঘোষণার অনেকটা সময় বাকি, তবুও বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক পারদ দ্রুত চড়তে শুরু করে। বিরোধী দল বিজেপি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন, “মহিলাদের হাতে জুতো খাওয়ার সময় শ্যামল মণ্ডলদেরই এসে গিয়েছে।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কোন মহিলারা ঝাঁটাপেটা করবেন? আরজি কর কাণ্ডের পর যাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিলেন, তাঁরাই কি? এই মন্তব্যে দুই পক্ষের বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হয়।
এদিকে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগামিকাল থেকেই রাজ্যে আসছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি বাহিনী পৌঁছবে। এর মধ্যে বীরভূমে ৭ কোম্পানি, পুরুলিয়ায় ৫, কলকাতায় ১২, দক্ষিণ দিনাজপুরে ১২, পূর্ব মেদিনীপুরে ১৪ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনে ৪ কোম্পানি মোতায়েন করা হবে। অধিকাংশ জেলাতেই ১০-এর কম কোম্পানি থাকবে। পরে আরও ৪০ কোম্পানি এবং তার পরবর্তী ধাপে ২০০ কোম্পানি বাহিনী আসার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Donald Trump : পাকিস্তানি নাগরিকের ছকে ট্রাম্পকে হত্যা*র পরিকল্পনা? মার্কিন রাজনীতিবিদদের ওপর মামলা শুরু!
সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আগমন ঘিরে রাজ্যে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট। ভোটের আগে নিরাপত্তা জোরদার করা নাকি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া—এই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তবে শাসক-বিরোধী এই বাকযুদ্ধ যে আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।





