ভোটের আগে বাংলার রাজনীতি বরাবরই উত্তপ্ত থাকে। কিন্তু এবার উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে কোনও প্রার্থী নন, বরং ভোটার তালিকাই। গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যে বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা দাবি–পাল্টা দাবি চলছিল। কতজনের নাম বাদ যাবে, আদৌ এত বড় সংখ্যা হতে পারে কি না—তা নিয়ে জল্পনা থামছিল না। অবশেষে শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতেই স্পষ্ট হল ছবির একাংশ।
গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়ই ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছিল। কমিশনের তরফে জানানো হয়, মৃত ভোটার, অন্যত্র স্থানান্তরিত ভোটার এবং একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটারদের নামই মূলত বাদ যায়। এরপর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল, আরও ৭ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৬৫ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ গেল। পাশাপাশি এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ নাম অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে, যাদের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই সংখ্যাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। আগে থেকেই কিছু বিজেপি নেতা দাবি করেছিলেন, বাদ পড়া নামের সংখ্যা এক কোটির কাছাকাছি যেতে পারে। অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, কমিশনের কার্যালয়ে বসে জোর করে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েক দিন আগে বলেছিলেন, প্রথমে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, পরে আরও নাম বাদ হতে পারে—তবে সেই সংখ্যা ৮০ লক্ষ ছাড়াতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর তৃণমূল নেতা তন্ময় ঘোষ জানান, বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে রাজনৈতিক ও আইনগত আন্দোলন হবে। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে বাঙালিদের হেনস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, কার লাভ বা ক্ষতি হল, তা বিচার করা রাজনৈতিক দলের কাজ নয়; তালিকা প্রকাশের পর ভোটযুদ্ধেই নামতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টে মামলা নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের জন্য ‘বুমেরাং’ হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal : ভোটের আগেই বিস্ফো*রক মন্তব্য! কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে শ্যামল মণ্ডলের ঝাঁটাপেটা মন্তব্যে চড়ল রাজনৈতিক পারদ, পাল্টা জবাবে সজল ঘোষ!
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন অমীমাংসিত প্রায় ৬০ লক্ষ নাম ঘিরে। কমিশন জানিয়েছে, নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে আরও কত নাম বাদ পড়বে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। ফলে ৬৫ লক্ষেই কি শেষ, নাকি সংখ্যা আরও বাড়বে—সেই উত্তরের অপেক্ষায় রাজ্য রাজনীতি। ভোটের আগে এই তালিকাই যে আগামী দিনের কৌশল ও সমীকরণ ঠিক করে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।





