করোনার আবহে একদিকে রাজ্যবাসী ধনে প্রাণে বিপর্যস্ত হয়ে চলেছেন। অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপালের চিঠি চালাচালি কিন্তু অব্যাহত রয়েছে। এবার কলকাতা পুরসভায় প্রশাসনিক বোর্ড গঠন করা নিয়ে ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে উত্তর চাইলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।
গত ৬ই মে রাজ্য সরকার কলকাতা পুরসভা তরফে জানানো হয় যে পুরসভার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার দরুন এবং দেশের এ হেন জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে ভোট সম্ভব না হওয়ার কারণে পুরসভায় এবার প্রশাসক মণ্ডলি বসবেন এবং সেই মন্ডলীর প্রধান হবেন ফিরহাদ হাকিম। রাজ্যের পুরমন্ত্রীর দফতরের সচিবই তাঁকে প্রশাসনিক বোর্ডের প্রধান ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই পরিস্হিতিতে রাজ্যপালের অনুমোদন অনুসারেই রাজ্য সরকারের তরফে প্রশাসনিক বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এবার সেই বিজ্ঞপ্তি নিয়েই রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি লেখেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। কিন্তু সেই চিঠির উত্তর তাঁকে দেওয়া হয়নি, এরপর ৭ই মে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে ধনখড়বাবু।সেখানে তিনি বলেন রাজ্যপালকে তথ্য জানানো মুখ্যমন্ত্রীর কর্তব্য। অবশ্য সেই চিঠিরও জবাব দেওয়া হয়নি।
এতপর একটুও না দমে বৃহস্পতিবার মমতাকে আবার কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন ধনখড়। চিঠিতে তিনি কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক বোর্ড সদস্যদের বাছাই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। এর পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, এর আগে রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেও উত্তরও তাঁকে দেওয়া হয়নি।
শেষ প্রেরিত চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর সাংবিধানিক দায়িত্ব মনে করিয়ে দিয়ে রাজ্যপাল জানিয়েছেন, কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক বোর্ড গঠন সংক্রান্ত যে তথ্য যেন অবিলম্বে তাঁকে জানানো হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি সংবিধানের ১৬৭ নম্বর অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়েছেন রাজ্যপালের প্রতি তাঁর কর্তব্য এবং বর্তমান পরিস্হিতিতে সেই কর্তব্যের গাফিলতির কথা।
শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর এমন নীরবতা ‘১৬৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে শপথের পরিপন্থী’ নয় বলেও অভিযোগ করেছেন রাজ্যপাল ধনখড়। এই চিঠি পাওয়ার পরে যেন অবিলম্বে তাঁকে জবাব দেওয়া হয়, সেই কথাও তিনি স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন।






