কলকাতা মঙ্গলবার সকাল থেকেই জলজ্বালায় কার্যত ডুবে গিয়েছিল। ভোর থেকে টানা বৃষ্টি এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা এক ঝটকায় শহরবাসীকে চার দশক আগের ভয়ঙ্কর স্মৃতি মনে করিয়ে দিল। মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই এতটা বৃষ্টি নামল যে, ৪০ বছরের রেকর্ড ভেঙে গেল। অফিসযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ—সবার জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল। শহরের বিভিন্ন জায়গায় জল জমে যানজট, দুর্ঘটনা, এমনকি অ্যাম্বুল্যান্স আটকে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আবহাওয়া দফতর থেকে যে সতর্কবার্তা মিলল, তাতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপ আরও শক্তি বাড়াচ্ছে। এর প্রভাবে আগামী দিনে আবারও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাও এর কবলে পড়তে চলেছে। মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা থেকে শুরু করে পূর্ব মেদিনীপুর—সব জায়গাতেই ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা।
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ সমুদ্র। আলিপুর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের কারণে উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্র ভয়ঙ্কর রূপ নেবে। মৎস্যজীবীদের ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে সমুদ্রে না নামার জন্য। সমুদ্র উত্তাল হলে উপকূলের গ্রামগুলিতে প্লাবনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
প্রশ্ন উঠছে, কলকাতার ড্রেনেজ ব্যবস্থা আদৌ এই দুর্যোগ সামলাতে প্রস্তুত তো? মঙ্গলবারের ঘটনাই প্রমাণ করেছে, সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই শহর কার্যত থমকে যায়। সেখানে যদি পরবর্তী কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টি হয়, তাহলে পরিস্থিতি যে ভয়াবহ হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নাগরিকদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষায় একই সমস্যা হয়, কিন্তু কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে না।
আরও পড়ুনঃ Kolkata : “এরকম মেঘভাঙা বৃষ্টি আমি কোনওদিন কলকাতায় দেখিনি” – অসহায় হয়ে কি জানালেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম?
অতএব, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গবাসীর জন্য যে চরম সতর্কতার, তা স্পষ্ট। গভীর নিম্নচাপের চোখ রাঙানি এখন কার্যত শহর ও গ্রাম মিলিয়ে লাখ লাখ মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে।





