সোমবার রাত থেকে কলকাতা যেন এক অদৃশ্য জলপ্রলয়ের কবলে পড়েছে। শহরের রাস্তাঘাট, অলিগলি, বাজার—সবখানেই হাঁটু বা কোমর পর্যন্ত জল জমেছে। সাধারণ মানুষ রাস্তায় বের হতে পারছে না, যানবাহন থমকে আছে। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভয়ংকর দৃশ্য শেয়ার করছেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে মঙ্গলবার সকালে, যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা পুরসভার নেই। এবারের বৃষ্টি সম্পূর্ণ অ্যাবনর্মাল—অস্বাভাবিক।” মেয়রের কথায়, “এরকম মেঘভাঙা বৃষ্টি আমি কখনও দেখিনি। উত্তরাখণ্ড বা কাশ্মীরে এমন বৃষ্টির খবর পড়েছিলাম, কিন্তু কলকাতায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড আগে কখনো হয়নি।”
আসলে, আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান দেখালে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বালিগঞ্জে—২৯৫ মিলিমিটার। মুকুন্দপুরে ২৮০, গড়িয়ায় ২৭০, যাদবপুরে ২৫৮, গড়িয়াহাটে ২৬২ এবং কসবায় ২৪৬ মিলিমিটার। অন্যদিকে, সাউথ দমদমে সর্বনিম্ন মাত্র ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মেয়রও স্বীকার করেছেন, খাল ও ড্রেনেজ সিস্টেমের সীমাবদ্ধতার কারণে জল দ্রুত নদীতে পৌঁছাচ্ছে না। তিনি বলেন, “নদী ও সমুদ্র উত্তাল, জল উপচে পড়ছে। খালে না গেলে শহরের জল নামবে কীভাবে?”
ফিরহাদ হাকিম আরও জানান, “দুপুর দেড়টায় হুগলিতে বড় বাণ কাটা হবে। তারপরই জল ফেলতে পারা যাবে। আমাদের পাইপ সিস্টেম ঘণ্টায় মাত্র ২০ মিমি জল নামাতে পারে, কিন্তু এত পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে—৩০০ মিলিমিটার। তাই ধীরে ধীরে জল নামবে, অন্য কোনও উপায় নেই।” এছাড়াও তিনি সতর্ক করেন, “নাগরিকরা আজ ঘর থেকে বের হবেন না। বিদ্যুৎস্পৃষ্টের খবর আসছে। জীবন ঝুঁকিপূর্ণ।”
প্লাস্টিক ও আবর্জনা জমে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। মেয়র বলেন, “পুজো কমিটির সামনে জমে থাকা প্লাস্টিক সরাতে হবে। আমরা গালিপিটগুলো খোলার নির্দেশ দিয়েছি।” তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথাও টেনে আনেন, “ছোটবেলায় ১৯৭৮ সালে এমন জল দেখেছিলাম। এরপর কখনও এমন বৃষ্টি দেখিনি। এবার আদিগঙ্গা পুরো ভরে গেছে।”
আরও পড়ুনঃ Durga puja holiday : কলকাতায় দুর্যোগের কারণে তিন দিন আগেই এবার পুজোর ছুটি শুরু! বন্ধ সমস্ত সরকারি স্কুল-কলেজ !
শহরের দুর্বল মানুষদের কথা ভেবে স্কুল খুলে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে, তবে কলকাতার দুর্ভোগ কমবে না। পুরো পরিস্থিতি দেখলে বোঝা যায়, প্রকৃতির কাছে মানুষের ক্ষমতা সীমিত। এই বৃষ্টি শুধু শহরের ড্রেনেজ নয়, মানুষের ধৈর্যকেও পরীক্ষা করছে।





