সোমবার সকাল। অফিসে পৌঁছনোর তাড়ায় রাস্তায় নেমেছেন হাজারো মানুষ। একদিকে গাড়ির হর্ন, অন্যদিকে ব্যস্ত রাস্তায় ছুটছে বাস, বাইক, সাইকেল। এমনই এক কর্মব্যস্ত সকালে আচমকা থমকে গেল সময়। চিৎকার, চেঁচামেচি, আতঙ্ক আর তীব্র যানজট—সব মিলিয়ে তীব্র অস্বস্তিতে পড়লেন পথচলতি মানুষজন। অফিসগামী বহু মানুষ দাঁড়িয়ে রইলেন রাস্তায়, স্তব্ধ হয়ে দেখলেন এক মর্মান্তিক দৃশ্য।
ভিআইপি রোড, শহরের অন্যতম ব্যস্ত একটি রাস্তা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তায় যাতায়াত করেন। সেই রাস্তাতেই সোমবার সকালে ঘটে গেল এমন এক দুর্ঘটনা, যা দেখে আঁতকে উঠেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ছুটতে থাকা ব্যস্ততার মাঝে আচমকা থেমে গেল এক প্রাণের গতি। বহু পথচারী দাঁড়িয়ে পড়লেন বিস্ময়ে, কেউ কেউ ছুটে গেলেন সাহায্যের জন্য। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে জানা গিয়েছে, সকাল ৮টা ১৫ মিনিট নাগাদ ভিআইপি রোডের বাঙুর অ্যাভিনিউয়ের কাছে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ওই সময় বারাসাত থেকে গড়িয়া যাচ্ছিল একটি এসি–৩৭ রুটের সরকারি বাস। বিপরীত দিক থেকে, অর্থাৎ কেষ্টপুর থেকে উল্টোডাঙার দিকে যাচ্ছিলেন এক যুবক বাইক চালিয়ে। অভিযোগ, অত্যন্ত তীব্র গতিতে ধেয়ে আসছিল বাসটি। সেই সময় ওই বাইকের সঙ্গে প্রথমে একটি সাইকেলের ধাক্কা লাগে।
সাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পরই বাইকচালক রাস্তার উপর ছিটকে পড়েন। আচমকা ওই ঘটনায় ব্যালান্স হারিয়ে পড়ে যান তিনি। আশেপাশে থাকা মানুষজন তখনও ভাবেননি কী ভয়াবহ ঘটতে চলেছে। ঠিক তখনই এসি–৩৭ রুটের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছুটে আসে ওই যুবকের দিকে। বাসচালকের গতি এতটাই বেশি ছিল যে, থামার সুযোগ পাননি তিনি। আর ঠিক তখনই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা।
পথচলতি মানুষের চোখের সামনেই বাসের চাকা পিষে দেয় বাইক আরোহীর মাথাকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন স্থানীয়রা, তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। ওই যুবককে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত যুবকের নাম দেবরাজ দাস। তাঁর বাড়ি উল্টোডাঙায়। জানা গিয়েছে, কেষ্টপুর থেকে উল্টোডাঙার দিকে যাওয়ার সময়ই দুর্ঘটনার শিকার হন দেবরাজ।
আরও পড়ুনঃ Ssc scam : একই তালিকায় যোগ্য-অযোগ্য! স্বচ্ছতা নয়, ধোঁয়াশাই কি SSC তদন্তের আসল উদ্দেশ্য?
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পুলিশ বাসটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে এবং কনডাক্টরকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু দুর্ঘটনার পর বাসচালক চম্পট দিয়েছে। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এই পথ দুর্ঘটনার জেরে অফিস টাইমে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় ভিআইপি রোডে। সাধারণ মানুষের দাবি, এত সাবধানতার প্রচার, নিয়ম, নিয়ন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও কেন রোজ রাস্তায় ঝরছে প্রাণ! সেই প্রশ্নেই মুখর শহরবাসী।






