রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এক অরাজকতার সাক্ষী থেকেছে বাংলা। খু’ন, মারামারি, ভোট লুট, ছাপ্পা ভোট সবই হয়েছেন। এমনকি, ভোট গণনার দিনও একাধিক এলাকা থেকে অশান্তি ও হিংসার খবর আসছে। এই হিংসা নিয়ে বিরোধীরা তো বটেই, সরব হয়েছেন তৃণমূলেরও একাধিক নেতা। এবার ভোট হিংসা নিয়ে মুখ খুললেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র ও তৃণমূল নেতা বাবুল সুপ্রিয়।
কী বললেন বাবুল সুপ্রিয়?
আজ, মঙ্গলবার ভোট গণনার দিনই বাবুল ভোট হিংসা নিয়ে বললেন, “তৃণমূল এমনিতেই জিতত। এই গন্ডগোলের কোনও দরকার ছিল না”। তাঁর কথায়, প্রা”য় ৭০ হাজার বুথের মধ্যে যে ১০০টি বুথে উত্তেজনা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে ঘুরে ফিরে সেগুলোই উঠে আসছে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমকেও দোষ দেওয়া যাবে না। ৭০টি বুথের অশান্তিতে যদি ৪০টি প্রাণ যায়, তাহলে সকলকেই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়”।
নিচুতলার কর্মীদের দায়ী করেন তৃণমূল নেতা
এই ভোট হিংসার জন্য তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের দায়ী করলেন বাবুল সুপ্রিয়। বাবুলের কথায়, “নিচুতলার কর্মীদের কাণ্ডকারখানার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সমালোচনার রাস্তা পেয়ে যাচ্ছে বিরোধীরা। তাঁরা বারবার বলেছিলেন দলীয় কর্মীদের সতর্কও করেছিলেন। নিচুতলার কর্মীদের বুঝতে হবে যে তৃণমূল সরকারের প্রকল্পগুলির সুবিধা পাওয়ায় জনতা এমনিতেই সন্তুষ্ট। তাই পঞ্চায়েতে তৃণমূলের জয় নিয়ে কোনও সংশয়ই ছিল না। এমন পরিস্থিতি তৈরি করার প্রয়োজনই ছিল না”।
মদনের কী বক্তব্য?
এই একই সুর শোনা যায় মদন মিত্রের গলাতেও। তিনি বলেন, “বাংলার নির্বাচনে রক্তের হোলি খেলা বন্ধ হোক। মারব, খুন করব, দখল করব, বাংলার এই সংস্কৃতি খুব দুঃখের। রক্তের হোলির মধ্যে দিয়ে এটাই যেন শেষ নির্বাচন হয়। পশ্চিমবঙ্গের এই খুনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে”।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটের দিন হিংসার বলি ১৬ জন। আহত একাধিক। রাজ্যের একাধিক এলাকায় মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজি হয়েছে। এমন হিংসা নিয়ে তোপ দেগেছেন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এবার এই নিয়ে সরব হলেন বাবুল সুপ্রিয় ও মদন মিত্র।





