টিকিয়াপাড়ায় পুলিশের উপর আক্রমণের ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি, তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নবান্নে টিকিয়াপাড়া নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন,”এসবে আমরা জাত-ধর্ম দেখি না। অন্যায় করলে কোনও হিন্দু-মুসলমান নেই সরকারের কাছে। ক্রাইম ইজ ক্রাইম।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, “রাজ্যের করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু লোক রাজনীতি করে যাচ্ছে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দিয়ে বাংলায় কিছু হলেই তা বিশাল বড় করে দেখানো হচ্ছে। আপনারা যেখানে সরকার চালান সেখানে কী হচ্ছে? কই সেসব নিয়ে তো আমরা বলতে যাচ্ছি না। আপনারা যদি মুখ খোলেন তাহলে আমিও আপনাদের প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেব। দিল্লিতে সিএএ-র প্রতিবাদ করতে গিয়ে কত লোক মারা গেছেন আমিও জানি। কিন্তু আমি এসব চাই না। টিকিয়াপাড়ায় একটা ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ অ্যাকশন নেবে। তোমার কী! সারাক্ষণ শকুনির মতো বসে আছে। কখন একটা ডেড বডি আসবে আর ঠুকরে ঠুকরে খাবে।” স্বভাবতই তাঁর রাগ কোনদিকে তা স্পষ্ট।
ঠিক কী হয়েছিল মঙ্গলবার?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাওড়া শহর এলাকাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ঘোষণা করেন। তারপরেও মঙ্গলবার প্রায় সকাল থেকেই ওইসব এলাকায় বহু মানুষকে লকডাউনের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাস্তায় নামতে দেখা যায়। বিকেলে টিকিয়াপাড়ার বেলিলিয়াস রোডে ফল ও অন্যান্য জিনিস কেনার জন্য অসংখ্য মানুষকে রাস্তায় নামতে দেখা যায়। এই সময়ে এলাকায় টহলরত পুলিশ বাইরে বেরোনো মানুষজনকে ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করতে থাকে। কিন্তু পুলিশের অনুরোধকে গ্রাহ্যের মধ্যেই আনেনি রাস্তায় নামা কয়েকশো মানুষ। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে। অভিযোগ, একরকম বাধ্য হয়েই পুলিশ এলাকার মানুষকে ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য সামান্য বল প্রয়োগ করে। তক্ষণাৎ কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয়। তারপরই তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। র্য়াফ কর্মীকেও সম্মিলিত জনতা মারধর করতে থাকে। জনতার ছোঁড়া ইটের আঘাতে একজন সাব-ইন্সপেক্টর সহ দুই পুলিশকর্মীর মাথা ফাটে। উন্মত্ত জনতা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে। উন্মত্ত জনতার হাত থেকে পুলিশ কর্মীরা কোনওরকমে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসেন। তারপর বিশাল সংখ্যক পুলিশ, রাফ ও কমব্যাট ফোর্স গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিষয়টি সামনে আসতেই মমতার সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে মমতার সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতারা। যদিও গতকালই রাতে টিকিয়াপাড়ায় শুরু হয়েছে ধরপাকড়। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪ জনকে।






