কোনও এক শক্তিকে আফগানিস্তানের মাটিতে কোনও ভাবেই বাড়তে দেওয়া যাবে না, যে কোনও দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করবে, গত সোমবার পাকিস্তানী এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছিলেন তালিবান মুখপাত্র সুহেল শাহিন।
উক্ত ওই সাক্ষাৎকারে সুহেল শাহিন বলেন, “আমরা এটা স্পষ্ট করে দিতে চাই যে আমাদের দেশের মাটি ব্যবহার করে কোনও দেশ বা কোনও গোষ্ঠী অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারবে না”। তালিবান মুখপাত্র আরও বলেন, “ভারত আমাদের দেশে অনেক প্রকল্পে কাজ করেছে। অনেক পরিকাঠামোগত প্রকল্পে ভারতের বিনিয়োগ রয়েছে। সেগুলি মানুষের ভালোর জন্য। ভারত চাইলে সেই প্রকল্পগুলি সম্পন্ন করতে পারে”।
প্রসঙ্গত, গত বেশ কিছু মাস ধরেই তালিবানের সঙ্গে ব্যাক চ্যানেলিংয়ের মাধ্যমে ভারত আলোচনা করলেও, আফগান সরকার হিসেবে তালিবানকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কী না, এ নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয় নি ভারত সরকার।
তালিবান ভারতের সঙ্গে কাজ করার বার্তা দিলেও দিল্লি কী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সকলের মনে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর হ্যাঁ বা না, কোনও কিছুই সরাসরি বলতে চাইলেন না। তাঁর কথায়, “এই বিষয়টি এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে”।
আফগানিস্তান নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরী বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য আপাতত নিউ ইয়র্কে রয়েছেন জয়শঙ্কর। সেখানেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয় যে ভারত আফগানিস্তানের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখছে কী না?
এই প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রী জানান, “এই মুহূর্তে কাবুলের উদ্ভূত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। তালিবান ও তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে কাবুল। ফলে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত”।
আফগানিস্তানে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে ভারত। সেখানে নানান ধরণের প্রকল্প চলছে। তালিবানরা জানিয়েই দিয়েছে যে তারা চায় ভারত এই প্রকল্পগুলি শেষ করুক। জয়শঙ্করের কথায়, “আফগানিস্তানে বিনিয়োগ জারি রাখবে ভারত। আফগান নাগরিকদের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে”।





