লন্ডনের মতো আন্তর্জাতিক শহরেও যে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ক্রমশ অশান্তির ছায়া ফেলছে, তারই একটি স্পষ্ট ছবি উঠে এল সাম্প্রতিক ঘটনায়। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে তৈরি হওয়া ক্ষোভ এবার গিয়ে পৌঁছাল বিদেশের মাটিতে। দূরে বসেও যে প্রবাসী সমাজ নিজেদের পরিচয়, নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে উদ্বিগ্ন—এই বিক্ষোভ সেই কথাই আবার সামনে এনে দিল।
বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে জমায়েত হন প্রবাসী বাংলাদেশি হিন্দুরা। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। তাঁদের বক্তব্য, বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে, কিন্তু প্রশাসনের তরফে কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। সেই ক্ষোভই বিদেশের মাটিতে প্রতিবাদের রূপ নেয়।
কিন্তু এই প্রতিবাদ ঘিরেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভ চলাকালীনই সেখানে পালটা জমায়েত শুরু করে খলিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। অভিযোগ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে তারা কার্যত ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে হিন্দু বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে হয় লন্ডন পুলিশকে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
এই ঘটনার পিছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক যোগসূত্রের কথাও উঠে আসছে। ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই ভারত-বিরোধী কিছু বাংলাদেশি গোষ্ঠীর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে আসছে খলিস্তানি জঙ্গি নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুন। শুধু পঞ্জাব নয়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভেঙে নতুন দেশ গঠনের উসকানিমূলক ডাক দিয়েছে সে। এমনকি একটি বিতর্কিত মানচিত্র প্রকাশ করে অসম, মেঘালয়, মণিপুর-সহ একাধিক রাজ্যকে নিয়ে তথাকথিত নতুন দেশের কথা বলেছে, যার নাম পর্যন্ত রেখেছে ‘ট্রাম্পল্যান্ড’। অরুণাচলপ্রদেশকে চিনের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে সেই মানচিত্রে, যা ভারতের সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি আঘাত বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
আরও পড়ুনঃ West Bengal : থানার কোয়ার্টারে তরুণী হোমগার্ডের রহস্য*মৃত্যু! প্রেম না কি ক্ষমতার অপব্যবহার? সাব ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ!
উল্লেখযোগ্যভাবে, পান্নুনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময় স্টেডিয়াম ও বিমানে হামলার হুমকি থেকে শুরু করে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে বসে ভারত-বিরোধী প্রচার—সবকিছুই তার বিরুদ্ধে জমা রয়েছে। এমনকি ২০২৫ সালের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ঘোষণা করেও শিরোনামে আসে সে। এই প্রেক্ষাপটেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও ইউএপিএ আইনে তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। লন্ডনের ঘটনাকে ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে—বিদেশের মাটিতে কি তবে ভারত ও বাংলাদেশ-বিরোধী শক্তিগুলির মধ্যে নতুন জোটের ইঙ্গিত মিলছে?






