মধ্যপ্রদেশের রাজনীতির অন্দরে ফের একবার এমন একটি অভিযোগ সামনে এসেছে, যা শুধু প্রশাসনের ভূমিকা নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। এক সাধারণ নারীর অভিযোগ ঘিরে রাজ্যের এক প্রান্তে শুরু হয়েছে চাপা উত্তেজনা। তিনি বলছেন, ন্যায় চাইতে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও আজও তিনি নিরাপত্তাহীন। আর সেই আশঙ্কার মধ্যেই সামনে এসেছে একটি ভাইরাল ভিডিও, যা নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে এক মহিলাকে চোখের জল ফেলতে ফেলতে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। তাঁর কণ্ঠে আতঙ্ক স্পষ্ট। তিনি বলছেন, প্রমাণ প্রকাশ্যে আনবেন। কিন্তু তার উত্তরে এক ব্যক্তি বুক চিতিয়ে দাবি করছেন, তাঁর কিছুই হবে না। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি অশোক সিং, যাঁর স্ত্রী মধ্যপ্রদেশের রামপুর বাঘেলান নগর পরিষদের বিজেপি কাউন্সিলর। যদিও ভিডিওটির সত্যতা প্রশাসনিকভাবে এখনও যাচাইাধীন, তবু অভিযোগের গুরুত্ব অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
নির্যাতিতার দাবি, প্রায় ছয় মাস আগে প্রথমবার তাঁর উপর নির্যাতন চালানো হয়। ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। শুধু শারীরিক নির্যাতন নয়, সেই ঘটনার ভিডিও তুলে রেখে লাগাতার ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে এতদিন মুখ বন্ধ রেখেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমেই অসহনীয় হয়ে ওঠায় তিনি অবশেষে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, চলতি মাসের ২০ তারিখ ফের তাঁর উপর যৌন হেনস্তা করা হয় এবং মুখ খুললে ভয়ংকর পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়। নির্যাতিতার আরও দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেও অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি নিয়মিত তাঁর দোকানে গিয়ে হুমকি দেন। নির্যাতিতা জানান, অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ আধিকারিকরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও কার্যত কোনও পদক্ষেপ এখনও চোখে পড়েনি।
আরও পড়ুনঃ Khalistani Vs Bengali Hindus: লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদ, ইউনুস সরকারের ঢাল হয়ে পালটা ময়দানে খলিস্তানিরা!
পুলিশের তরফে অবশ্য বলা হয়েছে, সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভাইরাল ভিডিও, নির্যাতিতার বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—ক্ষমতার ছায়ায় দাঁড়িয়ে কেউ কি সত্যিই আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে? আর এক নির্যাতিতার ন্যায় পাওয়ার লড়াই কতটা কঠিন হয়ে ওঠে, সেটাই যেন আবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে এই ঘটনা।





