Satyajit Ray : সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি ভাঙছে বাংলাদেশে! ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভ, কড়া বার্তা দিল কেন্দ্র!

আত্মিক সম্পর্ক, সংস্কৃতি, স্মৃতি—এই সবকিছু মিশে রয়েছে একটি বাড়ির দেওয়ালে। আর সেই স্মৃতিচিহ্নই আজ ধ্বংসের মুখে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এই বিতর্ক ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও। বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্র ও সাহিত্যের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য নাম সত্যজিৎ রায়। তাঁর ঠাকুরদা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি আজ ভাঙার মুখে। আর তাতেই ক্ষোভে ফুঁসছে বাঙালি মনন। প্রশ্ন উঠছে, এই কি তবে পরিণতি আমাদের প্রিয় ইতিহাসের?

কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে শুরু হয়েছে একটি ঐতিহাসিক বাড়ি ভেঙে ফেলার কাজ। আর এই বাড়িটি কোনও সাধারণ বাড়ি নয়—এটি উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পৈতৃক ভিটে, যেখান থেকে জন্ম নিয়েছিল রায় পরিবারের সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক অবদান। এখানেই কাটিয়েছেন শৈশবের কিছু সময় সুকুমার রায় ও সত্যজিৎ রায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকারের অধীনে এই ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আনে বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘দ্য ডেলি স্টার’ ও ‘প্রথম আলো’।

এই খবর সামনে আসতেই প্রবল প্রতিক্রিয়া জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানান ঐতিহ্যশালী এই ভবনকে রক্ষা করার। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই বাড়ি কেবল একটি স্থাপত্য নয়, এটি ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ইতিহাসের প্রতীক। তাঁর এই বক্তব্যের পরই নড়েচড়ে বসে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, “বাংলার সাংস্কৃতিক নবজাগরণের প্রতীক এই বাড়িটি শুধুমাত্র ঐতিহাসিক স্থাপত্য নয়, বরং ভারত ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের প্রতীক।” একইসঙ্গে তারা এই ভবনটি ভাঙার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে। তাদের বক্তব্য, এটি সংরক্ষণ করে সাহিত্য জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলা হোক, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক শিক্ষনীয় নিদর্শন হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুনঃ ভোর থেকে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি, দক্ষিণবঙ্গে স্বস্তি, উত্তরে তবু দুর্যোগের ইঙ্গিত — কেমন থাকবে আজকের ও আগামী দিনের আবহাওয়া?

একটা সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারিবাড়িও একই বিপদের মুখে পড়েছিল সিরাজগঞ্জে। এবার একই পরিণতি কি ঘটবে রায় পরিবারের বাড়ির ক্ষেত্রেও? বাংলাদেশ সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে ভারতের চাপ ও আন্তর্জাতিক মনোযোগের কারণে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউনূস সরকারের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ঐতিহ্য না আধুনিকতা, কোন পথ তারা বেছে নেবে?

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles