গত কয়েক বছরে একের পর এক জঙ্গি হামলা যেমন আমাদের কাঁপিয়েছে, তেমনই বদলে দিয়েছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সংক্রান্ত চিন্তাভাবনাও। এখন আর শুধু সীমান্ত অঞ্চল নয়, দেশের যে কোনও প্রান্তেই হানা দিতে পারে জঙ্গিরা— এই আশঙ্কা তাড়া করে বেড়াচ্ছে জনসাধারণকে। সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া নারকীয় হামলার পর সেই ভয় আরও গভীর হয়েছে।
২২ এপ্রিলের সেই ভয়ঙ্কর দিন এখনো মানুষের মনে গেঁথে রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের বৈসরন উপত্যকায় ওই হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন। তদন্তে উঠে এসেছে লশকর-এ-ত্যায়বার নাম। তবে ঘটনার এতদিন কেটে গেলেও হামলাকারীদের হদিস মেলেনি। অথচ তারা কীভাবে সহজে পালিয়ে গেল, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে গোটা দেশের কাছে।
এই পরিস্থিতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে আসা এক গোপন বার্তায়। সূত্র মারফত জানা গেছে, পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত ছয় জন সন্দেহভাজন জঙ্গি চেন্নাই বিমানবন্দর থেকে একটি আন্তর্জাতিক বিমানে করে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে পৌঁছে গিয়েছে। খবরটি পেয়েই তড়িঘড়ি সতর্ক করা হয় শ্রীলঙ্কার প্রশাসনকে। তবে ঠিক কোন বিমানে এই ছয় জন ছিলেন, তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য তখনো ছিল না।
শ্রীলঙ্কার পুলিশ সূত্রে খবর, ভারতের তরফ থেকে এই তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা কলম্বোর বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নজরদারি শুরু করে। চেন্নাই থেকে আসা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ইউএল ১২২ নম্বর বিমানটি কলম্বো পৌঁছাতেই শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। বিমানটি দুপুর ১১টা ৫৯ মিনিটে অবতরণ করে এবং সঙ্গে সঙ্গেই তা ঘিরে ফেলা হয় নিরাপত্তাকর্মীদের দ্বারা। তল্লাশি চলে ঘণ্টাখানেক। যদিও বিমানে সরাসরি কাউকে আটক করা হয়নি বলে সূত্রের খবর, তবে গোয়েন্দাদের সন্দেহ এখনও কাটেনি।
আরও পড়ুনঃ Ullu web series : ওটিটির স্বাধীনতা না বিকৃতির স্বাধীনতা? ‘উল্লু’ শো ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে!
এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। চেন্নাই বিমানবন্দরের মতো উচ্চ নিরাপত্তার জায়গা কীভাবে ছয় জন সন্দেহভাজন জঙ্গির গন্তব্য হয়ে উঠল? কে বা কারা তাদের সহায়তা করল, আর কীভাবেই বা তারা দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হল? যদিও শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, তল্লাশির পর বিমানটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়, কিন্তু ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা এখন সেই যাত্রী তালিকা খতিয়ে দেখছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ সমন্বয়ে এই তদন্ত ভবিষ্যতে জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভাঙার দিকেই এগোতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।






