ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়া শ্রমিকদের নিয়ে মাঝেমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয় বাংলায়। সংসারে একটু বেশি রোজগারের আশায় নিজের গ্রাম-ঘর ছেড়ে তাঁরা কাজের খোঁজে পাড়ি দেন ভিন রাজ্যে। কিন্তু কর্মস্থলে গিয়ে যদি তাঁদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়? যদি প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় পরিবার থেকে দূরে? তাহলে তাঁদের জীবিকার এই লড়াই আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন ওড়িশা-সহ কিছু রাজ্যে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকেরা।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে সব শ্রমিকেরা ভিন রাজ্যে কাজ করতে গেছেন, তাঁদের উপর একের পর এক হামলার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য জুড়ে। পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতনের খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন তাঁদের আত্মীয়রাও। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলেও নড়চড় শুরু হয়েছে। ভিন রাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছেন একাধিক নেতা। তবে এর মাঝেই সবচেয়ে জোরালো বার্তা উঠে এসেছে বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানের পক্ষ থেকে।
ওড়িশায় বাংলার শ্রমিকদের উপর ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান। তিনি দাবি করেছেন, বিজেপি-শাসিত ওড়িশায় সরকার গঠনের পর থেকেই এমন ঘটনা বাড়ছে। চিঠিতে তিনি চারটি দফার উল্লেখ করেছেন— এক, ওড়িশা প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হোক; দুই, আক্রান্ত শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত হোক; তিন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল গঠন করে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করা হোক; এবং চার, ফিরে আসা শ্রমিকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হোক। এই সমস্ত দাবি জানিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন করেছেন তিনি।
চিঠিতে ইউসুফ পাঠান অভিযোগ করেছেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের রাতের অন্ধকারে মারধর করা হচ্ছে, লুট হচ্ছে তাঁদের মোবাইল, উপার্জন, ছেঁড়া হচ্ছে আধার কার্ড, এবং জোর করে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে থাকার জায়গা থেকে। তিনি বলেন, এই হিংসার ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি দেশের সংবিধান অনুযায়ী দেশের যেকোনও প্রান্তে কাজ করার সাংবিধানিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন। উল্লেখ্য, তাঁর লোকসভা কেন্দ্র বহরমপুরের বহু শ্রমিক ওড়িশায় কাজ করেন।
আরও পড়ুনঃ Pahalgam attack: পহেলগাঁও হামলার ছয় জঙ্গি শ্রীলঙ্কায়! চেন্নাই থেকে বিমানে ওঠার খবরেই চাঞ্চল্য, জারি হলোতল্লাশি অভিযান !
এই ইস্যুতে প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরীও সরব হয়েছেন, যিনি ওড়িশা ও গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন। কংগ্রেস শিবিরের দাবি, অধীরের চাপেই শাহকে চিঠি পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন ইউসুফ। যদিও তৃণমূল সূত্র জানিয়েছে, ইউসুফ পাঠান ২৭ এপ্রিলেই চিঠি পাঠিয়েছেন, যা প্রকাশ্যে আনা হয়েছে পরে। অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, কেন বাংলায় গোষ্ঠী সংঘর্ষে এঁরা চুপ ছিলেন? তিনি বলেন, এই চিঠি সংখ্যালঘু ভোটের রাজনীতি ছাড়া কিছু নয়। তবে সবমিলিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও মানবিক অধিকার নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্যে।





