বাংলার ১০ জন তৃণমূল সাংসদ-বিধায়কের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন, নারী নির্যাতনের মামলা, আর জি করের ঘটনার মধ্যেই ফাঁস বিস্ফোরক তথ্য

আর জি করের ঘটনা নিয়ে যখন গোটা দেশ উত্তাল, যখন তরুণী চিকিৎসকের উপর হওয়া যৌন অত্যাচার ও খুনের ঘটনায় দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবী উঠেছে, সেই সময় দাঁড়িয়ে সামনে এল এক বিস্ফোরক তথ্য। জানা গেল, তৃণমূলের ১০ জন সাংসদ-বিধায়ক যৌন নির্যাতনের মামলায় যুক্ত। কারা এই সাংসদ-বিধায়করা, উঠছে প্রশ্ন।

ভোট পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অফ ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস বা এডিআরের তরফে প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে জানানো হয়েছে, দেশের নানান আইন প্রণেতাদের বিরুদ্ধেই রয়েছে যৌন নির্যাতন-সহ ধর্ষণের অভিযোগ। এই সংস্থা প্রত্যেক নির্বাচনের পর জাতীয় পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। আর জি করের ঘটনার পর নতুন করে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে খবর।

এই সংস্থার সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লোকসভা ও রাজ্যসভার ৭৫৫ জন সাংসদ ও দেশের মোট ৩৯৩৮ জন বিধায়কের মধ্যে ১৫১ জনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ সংসদ বা বিধানসভায় যে সমস্ত সাংসদ ও বিধায়করা আইন প্রণয়ন করে থাকেন, তাদের মধ্যেই অনেকেই সেই ঘৃণ্য অপরাধে অভিযুক্ত। আর সেই নেতারাই আবার বিপুল ভোটে জিতেছেনও।

এডিআরের প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, বাংলার শাসক দল তৃণমূলের ১০ জন সাংসদ-বিধায়কের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের মামলা চলছে। আবার কংগ্রেসের ২৩ জন সাংসদ-বিধায়কের বিরুদ্ধে রয়েছে নারী নির্যাতনের অভিযোগ। তেলুগু দশম ও আম আদমি পার্টির যথাক্রমে ১৭ ও ১৩ জনের বিরুদ্ধে এই ঘৃণ্য অপরাধের মামলা রয়েছে। আর সবথেকে বেশি এই অপরাধে যুক্ত বিজেপির সাংসদ-বিধায়করা। গেরুয়া শিবিরের ৫৪ জন সাংসদ-বিধায়ক এই যৌন নিপীড়ন, নারী নির্যাতনের মামলায় অভিযুক্ত বলে জানা গিয়েছে।

এডিআরের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলার ১০ জন সাংসদ-বিধায়ক এই নারী নির্যাতনের মামলায় যুক্ত থাকলেও, যৌন নির্যাতন বা নারীর প্রতি হিংসার ঘটনা অন্যান্য রাজ্যগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বাংলা। সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানিয়েছেন, বর্তমান সাংসদ-বিধায়কদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলিই প্রকাশ করেছে তারা।

আরও পড়ুনঃ আর জি কর কাণ্ডের আন্দোলনে কোনও রাজনীতি চান না মৃতা তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা, প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেবেন কী তারা? 

এই রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ১৫১ জন সাংসদ-বিধায়কের মধ্যে ১৬ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে ১৪ জন বিধায়ক ও ২ জন সাংসদ। এর মধ্যে আবার একজন তৃণমূলেরও রয়েছেন। যদিও সেই নাম প্রকাশ করে এডিআর।     

RELATED Articles