সিবিআই-ইডিকে অপব্যবহার করে বিরোধী নেতানেত্রীদের হেনস্থা কেন্দ্রের, অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা তৃণমূল-সহ ১৪ বিরোধী দলের

কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে বিরোধী নেতানেত্রীদের হেনস্থা করার অভিযোগ আগেই তুলছিল দেশের ১৪টি বিরোধী দল। এবার সেই অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল তারা। সিবিআই বা ইডির আচমকা গ্রেফতার ও বিরোধী নেতানেত্রীদের হেনস্থা করার অভিযোগ তুলে আজ, শুক্রবার শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করা হল ১৪টি বিরোধী দলের তরফে। জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় এজেন্সি গ্রেফতার করার আগে ও পরে কী কী নিয়মকানুন রয়েছে? সুপ্রিম কোর্ট এই মামলা গ্রহণ করেছে। মামলা শুনানি রয়েছে ৫ এপ্রিল।

এই ১৪টি বিরোধী দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে কংগ্রেস। এই ১৪টি বিরোধী দলের মধ্যে রয়েছে তৃণমূল, ডিএমকে, আরজেডি, বিআরএস-সহ বিজেপি বিরোধী বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। অভিযোগ, এই সবকটি রাজনৈতিক দলের কোনও না কোনও প্রতিনিধিকে জেরার মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ও তাদের হেনস্থা করা হয়েছে।

গতকাল, বৃহস্পতিবার ‘মোদী’ পদবী নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করার জেরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে জেল হেফাজতের শাস্তি দেওয়া হয়। তবে পরে তিনি যদিও জামিন পেয়ে যান। অন্যদিকে আবার, জমির বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে আরজেডি নেতা তথা বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদবকে দীর্ঘ সময় ধরে ইডির জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল। এই জিজ্ঞাসাবাদে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী।

শুধু তাই-ই নয়, তেলেঙ্গানার ভারত রাষ্ট্র সমিতি অর্থাৎ কেসিআরের মেয়ে কে কবিতাকে দিল্লির ইডি দফতরে একাধিকবার ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। অন্যদিকে, বাংলায় তৃণমূলের একাধিক নেতাকেও জেরা করছে সিবিআই-ইডি। নানান অভিযোগে তলব করা হচ্ছে তাদের। বিরোধীদের দাবী, এভাবেই কেন্দ্র সরকার কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে বিরোধীদের অপদস্ত করছে।

এই ঘটনার কথা উল্লেখ করেই আজ, শুক্রবার ১৪টি বিরোধী দলের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন অভিষেক মনু সিংভি। আদালতে তিনি জানতে চান, ইডি বা সিবিআই কাউকে গ্রেফতার করার আগে ও পরে কী কী নিয়মকানুন রয়েছে? তিনি এও বলেন যে কোনও মামলায় তারা হস্তক্ষেপ করতে চান না তবে তাঁর মতে গণতন্ত্র নাকি ধ্বংসের মুখে। এই মামলার শুনানি রয়েছে আগামী ৫ এপ্রিল।  

RELATED Articles