ভোট যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে প্রচার এখন তুঙ্গে। প্রতিশ্রুতি, পাল্টা অভিযোগ আর রাজনৈতিক বার্তার ভিড়ে সাধারণ মানুষের নজরও এখন ভোটমুখী। এই আবহেই মুর্শিদাবাদে এক বড় রোড শো করে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে এলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার আল-আমিন মিশন গ্রাউন্ড থেকে জিগরি মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ রোড শো করেন অভিষেক। সেই কর্মসূচি শেষ হতেই একযোগে একাধিক পক্ষকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগের তালিকায় ছিল বিজেপি, নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে কংগ্রেস নেতৃত্বও। ভোটের আগে এমন সরাসরি আক্রমণ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
সবচেয়ে বেশি চর্চায় এসেছে অভিষেকের ‘তিন এজেন্সি’ মন্তব্য। তাঁর দাবি, মুর্শিদাবাদে বিজেপির হয়ে কাজ করছে তিনটি শক্তি নির্বাচন কমিশন, কংগ্রেস এবং মিম। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী এবং মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি-র নামও উল্লেখ করেন তিনি। অভিষেকের কথায়, “যাঁরা ভোট ভাগ করার চেষ্টা করছেন, তাঁরা আসলে বিজেপিরই দালাল।” এই মন্তব্য ঘিরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
শুধু আক্রমণেই থেমে থাকেননি তৃণমূলের এই নেতা। ফরাক্কা ও সমশেরগঞ্জের দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীভাঙন নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ১০০ কোটির বেশি টাকা খরচ করে কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি কেন্দ্রকে একাধিকবার এই সমস্যাকে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করার আবেদন জানানো হলেও সাড়া মেলেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পুনরায় ক্ষমতায় এলে ফরাক্কা বাঁধের অব্যবহৃত জমি ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের কথাও জানান অভিষেক।
ভোটের ঠিক আগে ঐক্যের বার্তাও দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিভাজনের রাজনীতি রুখতে সবাইকে একজোট থাকতে হবে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে আশ্বাস দিয়েছেন ফের ক্ষমতায় এলে এক মাসের মধ্যে সবার ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, সবংয়ে এক তৃণমূল সমর্থকের বাড়িতে হেনস্থার অভিযোগ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। সব মিলিয়ে মুর্শিদাবাদের মঞ্চ থেকে অভিষেকের এই আক্রমণাত্মক ভাষণ ভোটের আগে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলল।





