শেষ কয়েকদিন ধরে সমগ্র দেশ এক অদ্ভুত ধাক্কার মধ্যে দিয়ে চলেছে। প্রত্যেকে টেলিভিশন স্ক্রিনের সামনে আটকে, চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। পহেলগাঁও (Pahalgam) জঙ্গি হামলার পরে যেন গোটা দেশের হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। দেশের মাটিতে ফের একবার রক্ত ঝরার দায়ভার কে নেবে— এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।
সাধারণ মানুষের এই অসহায়তা ও ক্ষোভের মাঝে, চেনা মুখগুলো থেকেও বহুদিন কোনও শব্দ শোনা যায়নি। রাজনৈতিক নেতা, যারা সবসময় টিভির পর্দা দখল করে রাখেন, তাদের অনেকেই নিশ্চুপ। ঠিক এই নীরবতা ঘিরেই এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষত শিবিরের অন্যতম বড় মুখ অভিষেক ব্যানার্জি (Abhishek Banerjee) হামলার পাঁচ দিন পরে মুখ খুলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন।
পহেলগাঁও হামলার পরপরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিবাদ শোনা গিয়েছিল। কিন্তু রাজ্যের শাসকদলের এই প্রভাবশালী নেতাকে নিয়ে নেটমাধ্যমে প্রশ্ন উঠতে থাকে— তিনি কেন চুপ? পাঁচ দিন পরে অবশেষে অভিষেক ব্যানার্জি মুখ খুলেছেন এবং তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকার এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, হামলার প্রকৃত তদন্তের বদলে কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে মিডিয়া ব্যবহার করছে।
অভিষেকের বক্তব্যে এই ইঙ্গিত স্পষ্ট যে, কড়া পদক্ষেপের পরিবর্তে সরকার কেবল ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বা হুমকির খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “এটা সময় পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) ফেরত আনার। প্রতীকী প্রতিক্রিয়া নয়, চূড়ান্ত পদক্ষেপ চাই।” অভিষেকের এমন উস্কানিমূলক মন্তব্য সামনে আসতেই দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে, এতদিন পর কেন তিনি এই রকম জোরালো বক্তব্য রাখলেন? তাহলে কি এই নীরবতার পিছনে কোনও বিশেষ রাজনৈতিক কৌশল ছিল?
আরও পড়ুনঃ CPIM: ফের সিপিএমে নতুন বিতর্ক! অশ্লীল বার্তার অভিযোগে প্রাক্তন নেতার বহিষ্কার!
সূত্রের খবর অনুযায়ী, অভিষেক ব্যানার্জির বক্তব্য রাজ্য সরকারের স্ট্র্যাটেজির অংশ হতে পারে, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারকে কোণঠাসা করাই লক্ষ্য। তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে কার্যত কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নতুন করে ক্ষোভ উসকে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, পহেলগাঁও হামলার পর এতদিন চুপ থাকার ফলে তাঁর জনপ্রিয়তায় প্রভাব পড়ছিল, সেটি ঢাকতেই তিনি এখন এমন আগ্রাসী ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, এই মন্তব্যের পর দেশের রাজনৈতিক আবহে আরও কতটা চাপানউতোর বাড়ে।






