এমনিতেই ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর তাঁর পছন্দের ব্যক্তি নন। এই কারণে দিল্লিওতে শরদ পাওয়ারের সঙ্গে পিকের বৈঠক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। আর এবার আজ, বুধবার ফের তৃণমূল তো বটেই, এরই সঙ্গে পিকের বিরুদ্ধেও তোপ দাগলেন তিনি।
অধীরের কথায়, “পিকে আসলে কার জন্য কাজ করেন সেটা ভাল করে বুঝতে হবে। প্রশান্ত কিশোর আসলে মোদীর এজেন্ট। তিনি বিজেপির অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করেন। আজ সেই পিকে-কেই তৃণমূলে জায়গা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলে এখন পিকে আর অভিষেকের ক্ষমতা বাড়ছে। ওঁরাই দলটাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। কংগ্রেসকে হেয় করে বিজেপিকে রোখা যাবে না, এটা বুঝে নিক তৃণমূল নেতৃত্ব। ২০২৪-এ নির্ণায়ক শক্তি আসছে”।
এই বিতর্ক শুরু হয় পিকের একটি মন্তব্যকে ঘিরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়া সফরের দিন তিনি বলেন, “জিতুক হারুক ভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রতেই থাকবে বিজেপি। তাঁরা যদি সর্বভারতীয় স্তরে ৩০ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করে তবে রাজনীতিতে বিজেপির প্রাসঙ্গিকতা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। সাধারণ মানুষের মোদীর প্রতি রাগ আছে বলে তারা মোদীকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে, এই ফাঁদে দয়া করে পা দেবেন না। মানুষ যদি মোদীকে পরাজিতও করে, তাতেও বিজেপির প্রাসঙ্গিকতা আগামী কয়েক দশক অটুট থাকবে”।
এমনকি, এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করতেও শোনা যায় পিকে-কে। তিনি বলেন যে বিজেপিকে নিয়ে রাহুলের মূল্যায়ন ভুল ছিল। রাহুল বলেছিলেন যে জনগণ বিজেপিকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে। কিন্তু তা হয়নি। নিজে ব্যক্তিগতভাবে বিজেপি বিরোধী হলেও, পেশাদারিত্বে কিন্তু পিকে সবসময় সত্যকে তুলে ধরার চেষ্টাই করেন।
তবে এই প্রথমবার নয়, প্রশান্ত কিশোরকে এর আগেও একাধিকবার নানাভাবে বিঁধেছেন অধীর চৌধুরী। দিল্লিতে শরদ পাওয়ারের বাসভবনের বৈঠকেও দেখা যায়নি তাঁকে। তিনি বলেছিলেন, “পিকে দিল্লিতে কাকে নিয়ে বৈঠক করবেন, তা নিয়ে আমাদের চিন্তা করার কিছু নেই। ওঁ কার সঙ্গে বৈঠক করবেন তা ওঁর ব্য়াপার। প্রশান্ত কিশোর আমাদের ভাগ্যবিধাতা নন। আমাদের জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে এমন কোনও নির্দেশ আসেনি। শরদ পাওয়ার কী করবেন তা ওঁর ব্যাপার। সে বিষয়ে কিছু বলার নেই”। আর এবার সরাসরি প্রশান্ত কিশোরকে ‘মোদীর এজেন্ট’ বলে দাগলেন কংগ্রেস নেতা। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অধীরের এমন কটাক্ষের নেপথ্য়ে মমতার গোয়া সফর একটা বড় কারণ।
প্রসঙ্গত, কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্বের ছবি এর আগেও প্রকাশ্যে এসেছে। দলের প্রবীণ নেতারা অনেকেই এর আগে সংগঠন ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। সদ্য তৃণমূলে যোগদানকারী গোয়ার প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী ফালেইরোর মতে, “তৃণমূল কংগ্রেস, ওয়াইএসআর কংগ্রেস, শরদ পাওয়ার কংগ্রেস, আমি চাই কংগ্রেস পরিবার একত্রিত হোক। আমার লক্ষ্য বিজেপিকে হারানো। বিজেপিকে হারাতেই আমার তৃণমূলে যোগদান”।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সর্বভারতীয় স্তরে অসমের সুস্মিতা দেব, গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফালেইরোর মত নেতা-নেত্রীরা বিজেপি বিরোধী। কিন্তু কংগ্রেসের উপর আস্থা রাখতে না পেরে তারা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে আবার, গোয়ায় তৃণমূলের এমন আস্ফালন মোটেই ভালোভাবে নিচ্ছে না কংগ্রেস। তাদের মতে, এতে বিজেপি বিরোধিতার ঐক্যে ছেদ পড়বে।





