চার মাস ধরে বন্ধ দেশের সমস্ত সিনেমা হল। ভারতের অন্যতম বড় ইন্ডাস্ট্রি ভারতীয় সিনেমা। দীর্ঘ লকডাউনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কারণে বড়সড় আর্থিক ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে ভারতীয় বিনোদন ব্যবসা। আর এবার সেই ব্যবসাকে বাঁচানোর তাগিদেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে সিনেমাহলের দরজা খোলার অনুমতি চাইল তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রক।
শুটিংয়ের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র মিললেও থিয়েটার, সিনেমা হলের দরজা এখনও বন্ধ! সেই তালা কবে খুলবে জানা নেই। কারণ দেশের বেশ কিছু রাজ্যে সংক্রমণের হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর ঠিক সেই কারণেই ওটিটি প্ল্যাটফর্মই একমাত্র ভরসা প্রযোজক-পরিচালকদের। কিন্তু এই চক্করে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন থিয়েটার, মাল্টিপ্লেক্স, হল মালিকেরা। বিগত সাড়ে ৩ মাস ধরে বন্ধের জেরে যে লোকসান হয়েছে তাঁদের, তা সম্ভবত ক্যাশবাক্সের ভাঁড়ারে এবছরও কুলিয়ে উঠতে পারবেন না! এমতাবস্থায় সিনেমা হল মালিকদের কথা চিন্তা করেই তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে আগস্ট মাসেই থিয়েটার, মাল্টিপ্লেক্স খোলার আবেদন জানানো হল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে। তাহলে কি গোটা দেশজুড়ে আগামী আগস্টেই সিনেমা হলের দুয়ার খুলতে চলেছে দর্শকদের জন্য? সূত্র জানাচ্ছে শুক্রবার বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির সিআইআই মিডিয়া কমিটির সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের সচিব অমিত খারে এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে খার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সচিব অজয় ভাল্লা। সংশ্লিষ্ট বৈঠকে অমিত খারে জানিয়েছেন যে, ১লা আগস্টের থেকে ৩১ তারিখের মধ্যেই গোটা দেশে সিনেমা হল খোলার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
তবে সবথেকে প্রধান বিষয় যেটা বর্তমান পরিস্থিতিতে সিনেমা হল খুললেও দর্শকদের বসার আয়োজনের ক্ষেত্রে যে সামাজিক দূরত্বের কথা মাথায় রাখা হবে, সেকথাও জানিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাঁরা চাইছেন, দুটো সারির মাঝখানে একটা সারি ফাঁকা রেখেই দর্শক বসানো হোক। শুধু তাই নয়, ২জন দর্শকের মাঝে অন্তত ২ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে বসানোর কথাও বলা হয়েছে। তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা সম্ভব কিনা, বিবেচনা করে দেখবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তবে ইতিমধ্যেই কিন্তু, এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হঠে গিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত সিনেমা হল কর্তৃপক্ষেরা। তাঁদের কথায়, এভাবে সামাজিক দূরত্বের নির্দেশিকা মানতে হলে একেকটা শো শুধুমাত্র ২৫ শতাংশ দর্শককে নিয়েই করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে লাভ তো নেই-ই, বরং লোকসানই হবে সবথেকে বেশি! কারণ, এক্ষেত্রে নিয়মিত থিয়েটার-হল রক্ষণাবেক্ষণের খরচও রয়েছে।
প্রসঙ্গত, মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সিনেমা হলগুলির দরজা বন্ধ থাকায় সিনেমাওয়ালারা বড়সড় অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হয়েছেন। ভারতের বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির অর্থনৈতিক পরিকাঠামোতেও যে এইবছর ধ্বস নামতে চলেছে, তা বোধহয় আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না! এক্ষেত্রে ছবির বাজেট কমবে। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পারিশ্রমিকেও কাটছাঁট হওয়ার সম্ভাবনা। এই কঠিন সময়ে ছবির নির্মাতারা ইতিমধ্যেই অনলাইন মুক্তির দিকে ঝুঁকেছেন, অচিরেই যার বড় মাশুল গুনতে হবে সিনেমাহল-মাল্টিপ্লেক্সগুলিকে। সেকথা ভেবেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের কপালে। ইতিমধ্যেই নেটফ্লিক্স ১৭টি সিনেমা মুক্তির কথা ঘোষণা করে ফেলেছে। অন্যদিকে পিছিয়ে নেই, ডিজনি হটস্টার, আমাজন প্রাইমও। এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশই একমাত্র ভরসা সিনেমা হল মালিকদের কাছে।






