পুরী, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের পদচারণা, যেখানে বিশ্বাস আর ইতিহাস একসঙ্গে মিশে আছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই মন্দির ঘিরে নানা কাহিনি, লোকবিশ্বাস আর অজানা রহস্য ঘুরে বেড়িয়েছে। কিন্তু অনেকেই মনে করেন, এই পবিত্র ভূমির নীচেই হয়তো লুকিয়ে রয়েছে এমন কিছু, যা ইতিহাসের নতুন অধ্যায় খুলে দিতে পারে?
সম্প্রতি এক ভূ-ভৌত সমীক্ষার সূত্রে উঠে এসেছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। মন্দিরের চারপাশে মাটির নীচে এমন কিছু কাঠামোর অস্তিত্বের ইঙ্গিত মিলেছে, যা শুধুমাত্র সাধারণ ধ্বংসাবশেষ নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কোথাও যেন সুড়ঙ্গের মতো আকৃতি, আবার কোথাও বিস্তৃত স্থাপত্যের ছাপ যা এই জায়গার অতীতকে আরও জটিল করে তুলছে।
২০২২ সালে আইআইটি গান্ধীনগরের তত্ত্বাবধানে গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রেডার (জিপিআর) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সমীক্ষা চালানো হয়। ‘জগন্নাথ হেরিটেজ করিডর’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে পরিচালিত এই গবেষণায় প্রায় ৫ মিটার গভীরতা পর্যন্ত অনুসন্ধান করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মন্দিরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে প্রায় ৬ মিটার চওড়া এবং ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি বিশাল কাঠামোর ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনও ভূগর্ভস্থ পথ বা জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার অংশ হতে পারে, যা মন্দির থেকে সমুদ্রের দিকে বিস্তৃত।
এই আবিষ্কার হঠাৎ করেই হয়নি। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে করিডরের কাজ চলাকালীন এমার মঠের কাছে একটি ভাঙা সিংহমূর্তি উদ্ধার হয়েছিল, যা গঙ্গা রাজবংশের সময়কার বলে অনুমান করা হয়। এরপরই শুরু হয় বিস্তারিত সমীক্ষা। শুধু একটি কাঠামো নয়, বরং এমার মঠ, নৃসিংহ মন্দির, বুধি মা মন্দির-সহ আশপাশের এলাকায় মোট ৪৩টি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার অস্তিত্বের ইঙ্গিত মিলেছে। উদ্ধার হয়েছে মাটির বাসন, ধাতব জিনিসপত্রের মতো দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রীও।
আরও পড়ুনঃ West Bengal assembly election 2026 : “বিজেপি-কমিশন মিলে আমার সব কেড়ে নিয়েছে, তবে আমার কাছে মানুষ আছে” ভোট প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! মানুষের সমর্থনেই কি ঘুরে দাঁড়াবে তৃণমূল? কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই কাঠামোগুলি আসলে কী? কোনও গোপন সুড়ঙ্গ, যা হয়তো আক্রমণের সময় পালানোর পথ হিসেবে ব্যবহৃত হত? নাকি এটি ছিল উন্নত জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ধরনের কাঠামো প্রাচীনকালে উভয় কাজেই ব্যবহৃত হত। এমনকি, পুরো পুরী জুড়েই এই ধরনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছে, যা এক সময়ের বৃহৎ বসতির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে এখনও আরও গবেষণার প্রয়োজন। ততদিন পর্যন্ত শ্রীক্ষেত্রের মাটির নীচের এই রহস্যই হয়তো ইতিহাসপ্রেমীদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দেবে।





