কাজের ভারে কি তবে ভেঙে পড়লেন এক ব্যাঙ্ক অফিসার? অফিস ঘরের দরজা বন্ধ করে রেখে শেষবারের মতো কলম ধরেছিলেন এক সুইসাইড নোট লেখার জন্য। এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল পুনের বরামতী। যেখানে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার (Bank of Baroda) এক শীর্ষ পদস্থ বাঙালি আধিকারিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে তাঁর কর্মক্ষেত্র থেকেই। ঘটনায় শোকের ছায়া ছড়িয়েছে সমগ্র ব্যাংকিং মহলে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) রাতে বরামতীর ব্যাঙ্ক অফ বরোদা শাখা থেকেই উদ্ধার হয় শিবশঙ্কর মিত্র নামে ওই চিফ ম্যানেজারের ঝুলন্ত দেহ। বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। তিনি ছিলেন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা, কিন্তু বরামতী শাখায় বহুদিন ধরেই কর্মরত ছিলেন। অফিসের মধ্যেই এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনার পরই তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
ঘটনাস্থল থেকেই উদ্ধার হয় একটি সুইসাইড নোট। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা ছিল, ব্যাঙ্কের প্রতিটি কর্মী নিজের সাধ্যমতো কাজ করেন। তাই তাঁদের ওপর বাড়তি চাপ দেওয়া অনুচিত। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কাজের চাপে ভেঙে পড়েই এমন চরম সিদ্ধান্ত নেন শিবশঙ্করবাবু। যদিও তিনি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনেননি।
বরামতী থানার ইন্সপেক্টর বিলাস নালে জানিয়েছেন, গত ১১ জুলাই শিবশঙ্কর মিত্র চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। মানসিক ও শারীরিকভাবে তিনি ক্রমশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছিলেন বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। যদিও তিনি তখনও নোটিস পিরিয়ডে ছিলেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক কাজকর্ম এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আইনি প্রক্রিয়া মেনে ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট’ ফাইল করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ TMC : ২১ জুলাইয়ে তৃণমূলের নতুন চমক! ‘ডিমভাত’ নয়, এবার পাতে থাকবে মাংসভাত!
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা। এক্স-এর অফিসিয়াল হ্যান্ডলে একটি বিবৃতিতে তাঁরা লেখেন, “আমাদের সহকর্মী শিবশঙ্কর মিত্রর চলে যাওয়া আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে। তাঁর পরিবারের পাশে আমরা রয়েছি এবং সব রকম সহযোগিতা করব।” পাশাপাশি তারা জানিয়েছে, কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয় বলে জানায় ব্যাঙ্ক।





