২১ জুলাই শহিদ দিবস। প্রতি বছর এই দিনটিতে ধর্মতলায় মহাসমাবেশে যোগ দিতে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা শহরে আসেন। ব্যতিক্রম নয় এবারও। তবে এবারের সফর যেন হয়ে উঠল বিতর্কের কেন্দ্রে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এক ফেসবুক লাইভ, যা দেখে ক্ষুব্ধ অনেকেই। প্রশ্ন উঠছে— শহিদ স্মরণ না কি উৎসবের নামে তামাশা?
মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি দক্ষিণ ব্লকের তৃণমূল প্রতিনিধিদল শুক্রবার রাতে রওনা দেয় ধর্মতলার উদ্দেশে। নেতৃত্বে ছিলেন যুব তৃণমূল সভাপতি মোশারফ হোসেন ওরফে লিলুয়া। বাসে উঠেই শুরু হয় গান-বাজনা, হিন্দি ছবির জনপ্রিয় গান ‘চিকনি চামেলি’-তে উদ্দাম নাচ। আর সেই দৃশ্যই লাইভ করা হয় ফেসবুকে। বেশ কয়েকজন কর্মীকে অন্তর্বাস পরে বা জামা খুলে নাচতেও দেখা যায় লাইভে। ভিডিওটি দ্রুতই ভাইরাল হয়।
ভিডিওটি সামনে আসতেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। সাধারণ মানুষের একাংশ বলেন, “যেখানে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কথা, সেখানে কীভাবে এমন উদ্দামতা চলতে পারে?” অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, “একুশে জুলাই কি তবে শোকের দিন নয়, মজা করার উপলক্ষ হয়ে উঠেছে?” হাসি-ঠাট্টা, গানের মাঝে কোথাও যেন হারিয়ে গেছে শহিদদের প্রতি শোকের আবহ।
বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের সংস্কৃতিই এখন যেন ‘বিনোদন নির্ভর’। এক স্থানীয় বিরোধী নেতা বলেন, “এভাবে শহিদদের স্মরণ কি সম্মানজনক? এই কি আজকের যুব নেতৃত্বের মানসিকতা?” যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে জলঙ্গির রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ চরমে।
আরও পড়ুনঃ Bank Manager Suicide: ‘ব্যাঙ্কের উচিত কর্মীদের উপর চাপ না দেওয়া’—চাকরির ভারে আত্ম*হত্যা চিফ ম্যানেজারের!
ঘটনাটি সামনে আসার পর অনেকেই দাবি তুলছেন, দলের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বিশেষ করে যখন পুরো ঘটনা সরাসরি লাইভ করা হয়েছে, তখন তা দলের ভাবমূর্তিতেই কালো ছায়া ফেলেছে বলেই মত বিশিষ্টজনদের। শহিদ স্মরণে এমন ‘আচরণ’ কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজ্যজুড়ে। এখন দেখার, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কী অবস্থান নেন এই বিতর্কে।






