বেকারত্বের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে বহু তরুণ-তরুণী আজ সরকারি চাকরির জন্য প্রতিদিন একাধিক পরীক্ষায় বসছেন। কারও বয়স সীমিত, কারও পেটের দায়। ফলে প্রার্থীরা নিজেদের শরীর, মানসিকতা সবকিছু নিয়েই প্রস্তুত হচ্ছেন পরীক্ষার জন্য। কিন্তু তাতে কি নিরাপত্তা নিশ্চিত? প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে। কারণ, সরকারি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে নিজের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন এক মহিলা।
গত ২৪ জুলাই বিহারের বুদ্ধগয়ার বিহার মিলিটারি পুলিশ মাঠে হোমগার্ড নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষা চলছিল। বহু তরুণ-তরুণীর মতো ওই পরীক্ষায় অংশ নিতে হাজির হয়েছিলেন এক মহিলা প্রার্থী। কিন্তু হঠাৎ করে মাঝপথেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে মাঠে থাকা চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন, তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো প্রয়োজন। একটি অ্যাম্বুল্যান্সে তড়িঘড়ি তাঁকে পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য।
কিন্তু সেই অ্যাম্বুল্যান্সই হয়ে ওঠে বিভীষিকার আরেক নাম। অসুস্থ মহিলার অভিযোগ, হাসপাতালে যাওয়ার পথে অ্যাম্বুল্যান্সের ভিতরেই তাঁকে গণধর্ষণ করে ৩-৪ জন ব্যক্তি। বুদ্ধগয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তাদের নাম বিনয় কুমার (অ্যাম্বুল্যান্স চালক) ও অজিত কুমার (সহযোগী)। বর্তমানে দু’জনেই পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)।
অভিযোগ দায়ের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অভিযানে নামে। ধৃত দু’জনকে জেরা করে বাকিদের খোঁজ করছে পুলিশ। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখছে গাড়িটির গতি, রুট ও সময়। কোথায় কোথায় গাড়িটি থেমেছে, কোথা থেকে কারা উঠেছে, তারও বিশ্লেষণ চলছে। ইতিমধ্যেই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং একই ধরনের পরীক্ষায় যাঁরা অংশ নিচ্ছেন, তাঁদের পাশে প্রশাসন রয়েছে বলেই জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ চোট পেলেন শ্রীময়ী, বললেন ‘সব দোষ কাঞ্চনের!’ — কীভাবে ঘটল বিপদ?
এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লোক জনশক্তি পার্টির (রাম বিলাস) সাংসদ চিরাগ পাসোয়ান। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘বিহারে মহিলারা যদি সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়েও সুরক্ষিত না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে?’’ পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের গাফিলতি ও পুলিশের ভূমিকাতেই সবচেয়ে বেশি আঘাত লাগছে বলেই মত প্রকাশ করেন তিনি।





