ভূস্বর্গ ভয়ঙ্কর! এখন এই কথাটাই মনে মনে আওড়াচ্ছেন কাশ্মীরের বিজেপি নেতৃত্ব। ফের আরেকবার কাশ্মীরের এক বিজেপি সরপঞ্চের উপর হামলা চালাল দুষ্কৃতীরা। গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। গতকাল কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদীদের গুলিতে জখম হয়েছিলেন বিজেপির আরেক সরপঞ্চ। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই দলীয় কর্মীর ওপর আরেকবার প্রাণঘাতী আক্রমণে আতঙ্ক পড়ে গিয়েছে বিজেপি শিবিরে।
বৃহস্পতিবার সকালে বিজেপি নেতা সাজাদ আহমেদ খান্ডায়ের উপর হামলা চালায় সন্ত্রাসবাদীরা। অন্যান্য সরপঞ্চদের সঙ্গে কিছুদিন ধরে একটি পরিযায়ী শিবিরে ছিলেন সাজাদ। সম্প্রতি তিনি বাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাই কুলগামের বেস্সুতে তার বাড়ির দিকে তাঁর বাড়ীর দিকে যাত্রা শুরু করার। জানা গিয়েছে যে বাড়ি থেকে কুড়ি মিটার এর দূরত্বে তাঁর উপর গুলি চালনা করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
কোন সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এখনো পর্যন্ত এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। মঙ্গলবার রাতেই কোন গ্রামে আরেক বিজেপি সরপঞ্চের উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। তাঁর নাম আরিফ আহমদ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কুলগামের আখরে তাঁর উপর হামলা হয়েছে। কাশ্মীরের আইজি বিজয় কুমার জানিয়েছিলেন, বিজেপির সরপঞ্চের ঘাড়ে গুলি লাগে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। কাজিগুন্ডের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।
বিজেপির মুখপাত্র আলতাফ ঠাকুর জানান যে সশস্ত্র জঙ্গিরা মঙ্গলবার রাতে আরিফের বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁকে গুলি করে। সরপঞ্চকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিগত এক মাসে এই নিয়ে তৃতীয়বার কাশ্মীরে কোন বিজেপি নেতার ওপর হামলা চালানো হলো। গত মাসে বিজেপি প্রাক্তন জেলা সভাপতি ওয়াসিম বারি, তাঁর বাবা ও এক ভাইকে লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিরা খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। উত্তর কাশ্মীরের বান্দিপোরায় তাঁদের বাড়ির সামনেই হত্যাকান্ড ঘটে।
বিজেপি নেতার গোটা পরিবারের নিরাপত্তায় ১০ জন নিরাপত্তা অফিসার নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু জানা গিয়েছে যে ঘটনার সময় ওই ১০ জনের কেউই উপস্থিত ছিলেন না। তাদেরকে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে।





