‘অগ্নিপথ’ নিয়ে এখন গোটা দেশ উত্তাল। বিগত কয়েকদিন ধরে নানান রাজ্যে বিক্ষোভ চলছে। কোথাও ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তো কোথাও আবার জ্বলছে বাস। এই সংক্রান্ত নানান ছবি ছড়িয়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। তবে এরই মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু ভুয়ো তথ্যও। এর জেরে বিক্ষোভ আরও বাড়ছে।
এবার এই ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে পড়া রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। নিষিদ্ধ করা হল ৩৫টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ।
গতকাল, রবিবার কেন্দ্রের তরফে জানানো হয় যে অগ্নিপথ নিয়ে নানান ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পড়ছে নানান হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে। এই কারণে এমন ধরণের ৩৫টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপকে নিষিদ্ধ করল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। শুধু তাই-ই নয়, এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কারা ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে, তাদেরও চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলে খবর। ইতিমধ্যেই দশজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অ্যাডমিরাল দীনেশ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন যে আগামী ২১শে নভেম্বর থেকে নৌসেনায় প্রথম ব্যাচের অগ্নিবীরদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হবে। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদেরও অগ্নিবীর হিসেবে নিয়োগ করা হবে। অন্য জওয়ানদের মতোই অগ্নিবীরেরাও ভাতা পাবেন। কোনও অগ্নিবীর শহিদ হলে তাঁর পরিবারকে ১ কোটি টাকার অর্থসাহায্য করা হবে বলেও জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। তবে নিয়োগের সময় পুলিশি যাচাই ছাড়াও, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে অংশ নেননি এই মর্মে তাদের মুচলেকা পেশ করতে হবে জানা গিয়েছে।
বলে রাখি, সেনাবাহিনীর লোকবল অক্ষুন্ন রেখে আধুনিকীকরণের জন্য কেন্দ্রের তরফে নতুন প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার নাম অগ্নিপথ। এর মাধ্যমে সেনায় অস্থায়ীভাবে চার বছরের জন্য কর্মী নিয়োগ করা হবে। এদের পোশাকি নাম হবে ‘অগ্নিবীর’। ১৭ বছর থেকে ২১ বছর পর্যন্ত বয়সীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে বিক্ষোভের জেরে চলতি বছরে ভর্তির সময়ে ২৩ বছরের যুবকরাও এই প্রকল্পের অংশ হতে পারবে।
কিন্তু কেন্দ্রের ঘোষিত এই অগ্নিপথ প্রকল্প গোটা দেশে সেনায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র বিক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এভাবে অস্থায়ী পদে নিয়োগ নিয়ে অসন্তুষ্ট চাকরিপ্রার্থীরা। ইতিমধ্যেই দেশের নানান প্রান্তে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সেই বিক্ষোভের আঁচ বাংলাতেও পড়েছে।
এই ‘অগ্নিপথ’ বিতর্ক নিয়ে এদিনই প্রথমবার মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “এটা আমাদের দেশের দুর্ভাগ্য যে বহু ভালো জিনিসের পরিকল্পনা করা হয় ভাল উদ্দেশ্যে। কিন্তু রাজনীতির রং লেগে সেই উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়ে যায়”।





