মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় মহিলাদের ক্ষমতায়নের কথা বলেন। রাজ্যের নারীদের স্বনির্ভর করার কথা মাঝেমধ্যেই তাঁর নানান বক্তব্যে উঠে আসে। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মেয়েদের জন্য নানান কাজ অবশ্য করেছেন তিনি। কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে না দিয়ে তাদের যাতে উচ্চশিক্ষিত করা যায়, তার জন্য চালু করেছেন নানান প্রকল্প। কিন্তু আখেরে লাভ কী কিছু হচ্ছে?
ক্ষমতায় আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মেয়েদের জন্য চালু করেন ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের জেরে স্কুলে পাঠরত ছাত্রীরা অষ্টম শ্রেণীর পর থেকে মাসিক ৫০০ টাকা পায়। আর তাদের ১৮ বছর হলে এককালীন কিছু টাকা তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যায় যা তাদের পরবর্তীতে পড়াশোনার জন্য সাহায্য করে।
এছাড়াও রয়েছে ‘রূপশ্রী’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়েদের বিয়ের জন্য এককালীন টাকা দেওয়া হয়ে থাকে সরকারের তরফে। এসব প্রকল্পের একটাই উদ্দেশ্য যাতে কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে না দেওয়া হয়। ১৮ বছর বয়স হওয়া না পর্যন্ত যাতে মেয়েদের বিয়ে না দেয় তাদের পরিবার। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাল্যবিবাহ আর রোধ করা যাচ্ছে কই!
সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে গত ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে রাজ্যের নানান জেলায় বাল্যবিবাহের হার কমার বদলে উলটে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই বৃদ্ধির হারে শীর্ষে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। কলকাতাতেও বাল্যবিবাহের হার বেড়েছে ৩.৩ শতাংশ। দার্জিলিং, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, দুই ২৪ পরগণা, মাল্ধ, পুরুলিয়াতে এই হার তুলনামূলক কমলেও, জেলা অনুযায়ী বাল্যবিবাহ বৃদ্ধির হারই বেশি।
এই সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে যেখানে ১৮ বছর আগে মেয়েদের বিয়ের হার ছিল ৪১.৬ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষেও সেই হার একই রয়েছে। আবার ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার হারও ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষের তুলনায় বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই সমীক্ষার ফলাফল থেকে একটাই প্রশ্ন ওঠে, যে লক্ষ্য, যে উদ্দেশ্য নিয়ে রাজ্যে মেয়েদের জন্য একাধিক প্রকল্প শুরু করেছিল মমতা সরকার, সেই লক্ষ্য আদতে সফল হল আর কোথায়? এটা কী কোথাও গিয়ে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা নয়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতেই পারে!






