স্বাস্থ্য কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কড়া কেন্দ্র। জারি হল অর্ডিন্যান্স।

করোনা মোকাবিলায় যাঁরা ভরসার মুখ সামনের সারিতে থাকা সেই সব চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর একাধিক জায়গায় বারবার হামলা হচ্ছে। প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েও কিছু করে উঠতে ব্যর্থ। একাধিক রাজ্যের সরকার, বিশিষ্ট্য ব্যক্তিত্ব, সেলেবদের সচেতনতা বার্তা, অনুরোধ‌ও কাজে লাগছে না। বারবার‌ই আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁরা।

তাই এবার করোনা যোদ্ধাদের হামলার ঘটনায় রাশ টানতে আসরে নামল কেন্দ্র। কড়া হাতে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা রুখতে অর্ডিন্যান্স জারি করল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এবার হামলা করলেই হবে সর্বাধিক ৭ বছরের জেল। জরিমানা দিতে হবে ৫ লক্ষ টাকা। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর।
শতাব্দী প্রাচীন মহামারি আইনে (১৮৯৭) সংশোধনী করেই এই অর্ডিন্যান্স এনেছে কেন্দ্র। এখন শুধু রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলেই হামলাকারীদের দমন করতে নেমে পড়বে সরকার। এদিন জাভড়েকর দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, করোনা মোকাবিলায় শেষ আশা-ভরসা এই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাই। কিন্তু বারবার বারণ করা সত্ত্বেও দিকে দিকে এঁদের উপর হামলা থামছে না। এই দিন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসকরাও হামলার ঘটনায় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাঁদের সবরকম সহযোগিতার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধে চিকিৎসকরা প্রতীকী বিক্ষোভের কর্মসূচিও প্রত্যাহার করে নেন।

এরপরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বাস্থ্যকর্মীদের হামলার বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রীরা। সেখানেই নয়া অর্ডিন্যান্স নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই সাংবাদিক সম্মেলন করে অর্ডিন্যান্স আনার কথা ঘোষণা করেন প্রকাশ জাভড়েকর। কী কী উল্লেখ করা হয়েছে এই অর্ডিন্যান্সে, দেখে নিন এখনই

হামলার আঘাত সামান্য হলে-
** ৩ মাস থেকে সর্বাধিক ৫ বছর পর্যন্ত জেল
** ৫০ হাজার থেকে সর্বাধিক ২ লক্ষ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে অভিযুক্ত-র।

হামলার আঘাত গুরুতর হলে–
** ৬ মাস থেকে সর্বাধিক ৭ বছর পর্যন্ত জেল হবে অভিযুক্ত-র।
** ১ লক্ষ থেকে সর্বাধিক ৭ লক্ষ পর্যন্ত জরিমানা।

স্বাস্থ্যকর্মীদের গাড়ি ভাঙচুর সম্পত্তির দ্বিগুণ দাম জরিমানা হিসাবে দিতে হবে হামলাকারীকে।

আরও অন্যান্য খবর