গত মাসে শ্রীহরিকোটা থেকে পৃথিবীকে চির বিদায় জানিয়ে চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল চন্দ্রযান – ২। যাত্রা শুরুর পর গত ১৪ আগস্ট পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চন্দ্রযান -২ এগিয়ে গিয়েছিল চাঁদের কক্ষপথের দিকে। অবশেষে ৬ দিনের ‘ট্রান্স লুনার ইনসার্শন’ শেষে আগামীকাল চন্দ্রযান – ২ প্রবেশ করতে চলেছে চাঁদের কক্ষপথে।
এই প্রসঙ্গে, ইসরোর চেয়ারম্যান ডঃ কে শিভান জানান যে, ট্রান্স লুনার বার্নের মাধ্যমে কক্ষপথ বদল প্রক্রিয়া করা হবে। উৎক্ষেপণের পর থেকে এখনও অবধি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়নি চন্দ্রযান – ২ তে। চাঁদের কক্ষপথে চন্দ্রযান ২ কে প্রতিস্থাপন করতে হলে চাঁদের মধ্যাকর্ষণের মধ্যে যানটিকে যেতে হবে। আর সেই ক্ষেত্রে যানটির বেশি গতি রাখা সম্ভব হবেনা। তাই চন্দ্রযান ২ কে চাঁদের কক্ষে সঠিক ভাবে নিতে মোট পাঁচ বার বিভিন্ন সময়ে চালু করা হবে চন্দ্রযানের ইঞ্জিন। অবশ্যই সেসময় চন্দ্রযানের মুখ ঘুরিয়ে করে দেওয়া হয় পৃথিবীর দিকে। অর্থাৎ উল্টো দিকে থ্রাস্টের মধ্যানে গতি কমানো হবে চন্দ্রযান – ২ এর।
এরপর আগামীকাল চন্দ্রযান – ২ এর অর্বিটারটি চাঁদের কক্ষপথে ১০০ কিমি এর মধ্যে সঠিক ভাবে প্রতিস্থাপন হয়ে গেলে সেখান থেকে পৃথম হয়ে যাবে বিক্রম ল্যান্ডারটি। এরপর সেই ল্যান্ডারটিও চাঁদের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করতে করতে নির্বাচন করবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ল্যান্ড করার একটি তুলনামূলক সমতল জায়গা৷ জায়গা পেয়ে গেলেই বিক্রম ল্যান্ডারটি তার রকেটের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে সফট ল্যান্ডিং করবে৷ এরপরই ধীরে ধীরে চারদিকের প্রকৃতি বিচার করবে বিক্রম ল্যান্ডার থেকে বেড়িয়ে আসবে রোভার প্রজ্ঞান। যার কাজ হবে চাঁদের মাটি, জলবায়ু বিভিন্ন খনিজ পর্যবেক্ষণ করা৷ সব ঠিক থাকলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর রাত ২ টো বেজে ৫৮ মিনিটে চাঁদের মাটি ছুঁতে চলেছে ভারতের চন্দ্রযান – ২।





