‘চিরসখা’ ধারাবাহিকের প্লুটো চরিত্রের মৃত্যুর পর থেকেই দর্শকরা সরগরম। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্লুটোকে ফিরিয়ে আনার দাবি উঠেছে একের পর এক। চরিত্রটা যে এত বড় আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠবে, তা ভাবতেই পারেননি অভিনেতা পার্থ বেরা। মেদিনীপুরের ছেলে পার্থ, টালিগঞ্জে কাজ পেতে প্রথম থেকেই লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। অথচ অভিনয়ের শুরুতে এতটা গুরুত্ব পাবে তাঁর চরিত্র, সেটা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত।
গল্পে দেখানো হয়েছে, পরিস্থিতির চাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় প্লুটো। দর্শকরা চান চরিত্রটা আবার ফিরে আসুক। তবে লেখিকা জানিয়েছেন, গল্পের নিজস্ব ছন্দ থাকে, তাই দর্শকের ইচ্ছেমতো সব সময় প্লট বদলানো সম্ভব নয়। এই নিয়ে পার্থর নিজেরও বিশেষ আক্ষেপ নেই। তাঁর কথায়, “লেখিকা যা মনে করবেন, সেটাই ঠিক। আমি খুব কৃতজ্ঞ যে এমন একটা চরিত্র করতে পেরেছি।”
কলকাতায় আসার যাত্রাপথও সহজ ছিল না পার্থর। ২০২১ সালে প্রথমবার কাজের খোঁজে মেদিনীপুর থেকে আসেন তিনি। কলেজ শেষ করে ‘এডুকশন’-এ স্নাতক পাশ করেছিলেন। পরিবারে বাবা, মা, আর এক বোন। বাবা ব্যবসা করেন। মাঝারি পরিবারের ছেলে পার্থর জন্য অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। মা-বাবাকে বোঝাতে যথেষ্ট কষ্ট করতে হয়েছিল।
শুরুর দিনগুলোর কষ্ট এখনও স্পষ্ট মনে আছে তাঁর। পার্থ বলেন, “প্রথম দিন যখন কলকাতায় আসি, থাকার জায়গাই ছিল না। এক যাত্রাদলের প্রযোজক আমাকে তাঁর অফিসে থাকার জায়গা দিয়েছিলেন। না হলে হয়তো স্টেশনে বা রাস্তায় রাত কাটাতে হত।” শুধু তাই নয়, ধারাবাহিকের সেটেও মেদিনীপুরের ছেলে বলে তাঁকে অনেক সময় খোঁটা শুনতে হয়েছে। তিনি জানান, “সব সময় বলা হত আমি মেদিনীপুর থেকে এসেছি। খারাপ ব্যবহারও করা হত।”
আরও পড়ুনঃ Astrology: বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী: এবছরই কোটিপতি হওয়ার সম্ভাবনা এই ৪ রাশির
তবে অতীতের কষ্ট এখন আর মনে রাখতে চান না তিনি। প্লুটো চরিত্র তাঁকে যে পরিচিতি এনে দিয়েছে, সেটাই আজ তাঁর প্রাপ্তি। নতুন সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন পার্থ। তাঁর বিশ্বাস, এই লড়াই একদিন বড় সাফল্যের পথ খুলে দেবে।





