বাসস্ট্যান্ডে পড়ে করোনা রোগীর মৃতদেহ, ছড়াচ্ছে আতঙ্ক, পিঠ বাঁচাতে সত্ত্বর তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর!

করোনায় রোজ‌ই ভারতের যে চিত্র প্রকাশ পাচ্ছে তাতে কপালে বেশ কয়েকটা অতিরিক্ত ভাঁজ পরতে পারে ভারত সরকারের! করোনা আবহে এক ভয়াবহ ছবি দেখা গেল গুজরাতে। রাজধানী আহমেদাবাদের এক বাসস্ট্যান্ডে পড়ে রয়েছে করোনা আক্রান্ত এর ব্যক্তির মৃতদেহ। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয় তোলপাড়! নড়েচড়ে বসে গুজরাত সরকার। মুখ রক্ষায় তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি।

জানা গিয়েছে ওই করোনা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির নাম ছগন গুপ্ত। ৬৭ বছরের ওই প্রৌঢ়কে গত ১০ মে আহমেদাবাদের সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর ২ দিন পর তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। কিন্তু কীভাবে হাসপাতালে ভর্তি ছগন বাইরে এলেন বা কীভাবে তাঁর মৃতদেহ বাইস্ট্যান্ডে পড়ে রইল তার কোনও সদুত্তর নেই প্রশাসনের কাছে।

মৃতের ছেলের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৫ই মে তাঁদের কাছে পুলিশের ফোন আসে৷ ছগন গুপ্তের দেহ দানিলিমাড়া ক্রসরোডে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম স্টেশনে পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে জানান হয়। পুলিশই দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠায়। মাঝখানে কীভাবে কী হয়েছে, তার কোনও কিছুই পরিবারকে জানানো হয়নি বলেই তাঁদের দাবি।

ছগন গুপ্তের পরিবারের আরও অভিযোগ, ময়নাতদন্তের পরেই তাঁদের বলা হয় দেহটি নিয়ে গিয়ে সৎকার করতে। এজন্য অবশ্য কোনও রকম সুরক্ষা বা নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি তাঁদের, শুধু বলা হয়েছিল দেহ প্লাস্টিকে মুড়িয়ে রাখতে।

আহমেদাবাদ সিটি হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাঃ এমএম প্রভাকর জানিয়েছেন, ”রোগীর উপসর্গ খুব জটিল ছিল না। নতুন প্রোটোকল অনুযায়ী, তাঁকে বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়। ১৪ মে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেইসমসয় তিনি যথেষ্ট সুস্থ ছিলেন।” ডাঃ প্রভাকর আরও জানান, ”হাসপাতালের গাড়ি তাঁকে বাড়ি নিয়ে যায়। কিন্তু বাড়ির সামনের রাস্তায় যানজট থাকায় নিকটবর্তী একটি বাস স্ট্যান্ডে ছেড়ে দেওয়া হয়।” কিন্তু এদিকে ছগন গুপ্তের পরিবারকে না জানিয়েই তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন তাঁর পরিজনরা।

সেই সঙ্গে করোনা আক্রান্ত রোগীর দেহ এভাবে প্রকাশ্যে পড়ে থাকতে দেখে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। দ্রুত সেই ভয়ঙ্কর ছবি ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়। পরিস্থিতি সামলাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গোটা ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি।

দেশে করোনা আক্রান্ত রাজ্যগুলির মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে গুজরাত। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যে করোনা সংক্রমণের শিকার হয়েছেন ৩৯১ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের। ফলে গুজরাতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছেন ১১,৩৮০ ও ৬৫৯। এদিকে করোনার মৃত্যু হারে দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্রের পরেই রয়েছে গুজরাত। রাজ্যটিতে বর্তমানে করোনায় মৃত্যুর হার ৫.৫ শতাং, যা জাতীয় মৃত্যুহারের থেকে অনেকটাই বেশি।

RELATED Articles

Leave a Comment