বিশ্বাসঘাতকতার ভয়ংকর পরিণতি! আগুনে পুড়িয়ে ভাড়াটেকে মাটির নিচে চাপা দিলেন ক্ষুব্ধ স্বামী!

সম্পর্কের ভিত্তি হল বিশ্বাস, কিন্তু যখন সেই বিশ্বাসে ফাটল ধরে, তখন সম্পর্ক বদলে যায় ভয়ংকর প্রতিহিংসায়। সন্দেহ মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত অস্থিরতা তৈরি করে। কখনও কখনও এই সন্দেহ এমন জায়গায় পৌঁছায়, যেখানে মানুষ যুক্তি-বুদ্ধি সব ভুলে গিয়ে ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। আর তার ফল হয় ভয়াবহ! অতীতেও বহুবার দেখা গিয়েছে, প্রেম-পরকীয়া বা সম্পর্কের জেরে ঘটেছে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এবার তেমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল হরিয়ানার রোহতকে, যেখানে এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সন্দেহে ভাড়াটেকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে সাত ফুট গর্তে পুঁতে দিলেন!

এমন ঘটনা শুধু শোনা যায় সিনেমা বা সিরিয়ালের গল্পে। কিন্তু বাস্তবে যখন এমন কিছু ঘটে, তখন রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। কীভাবে একজন মানুষ এতটা নিষ্ঠুর হয়ে উঠতে পারেন, সেটাই ভাবনার বিষয়। সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়, কিন্তু সন্দেহ যদি একবার মনের মধ্যে জায়গা করে নেয়, তাহলে তা কীভাবে ভয়ংকর রূপ নেয়, তা ফের একবার প্রমাণ হল এই ঘটনায়।

স্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সন্দেহ, ভয়ংকর পরিকল্পনা স্বামীর

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম জগদীপ। পেশায় তিনি একজন যোগ ব্যায়ামের শিক্ষক ছিলেন এবং রোহতকের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতেন। তিনি হরদীপ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, সেখানেই হরদীপের স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথমে শুধুমাত্র সন্দেহ থাকলেও, পরে কিছু প্রত্যক্ষ প্রমাণ হাতে পান হরদীপ। এরপর থেকেই তিনি জগদীপের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকেন।

আগেই কুয়োর নামে খোঁড়া হয়েছিল ৭ ফুট গর্ত!

তদন্তকারীদের দাবি, হরদীপ অনেক আগেই একটি সাত ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে রেখেছিল, কুয়ো তৈরি করার নাম করে। এরপর একদিন সে পরিকল্পিতভাবে জগদীপকে ডেকে আনে এবং তার কয়েকজন বন্ধুর সাহায্যে তাঁকে মারধর করে। তারপর জীবন্ত অবস্থায় তাঁকে আগুনে পুড়িয়ে দেয় এবং সেই গর্তের মধ্যে ফেলে পুঁতে দেয়! পরিবারের সদস্যরা জগদীপের খোঁজ না পেয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর তদন্ত শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আরও পড়ুনঃ গরমের দাপট বাড়ছে! দক্ষিণবঙ্গে চড়ছে পারদ, উত্তরবঙ্গে আশার বৃষ্টি কবে?

ফোন কলের সূত্র ধরেই পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত

পুলিশ জগদীপের ফোন কলের রেকর্ড পরীক্ষা করে সন্দেহভাজন হিসেবে হরদীপের নাম চিহ্নিত করে। পরে তাঁকে আটক করে জেরা করতেই স্বীকার করে নেয় পুরো ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় হরদীপের সঙ্গে তার বন্ধু ধরমপালও জড়িত ছিল। দু’জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, আরও এক-দু’জন ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। আপাতত ধৃতদের জেরা করে বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর