“যে সংস্থার আইনগত অস্তিত্বই নেই, সেখান থেকেই ১৩.৫ কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার দাবি”, আই-প্যাক বিতর্কে তৃণমূলের ভূমিকা ঘিরে ফের প্রশ্নের মুখে প্রশাসন!

রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের আড়ালে থাকা সংস্থাগুলি সাধারণত পর্দার পিছনেই থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই পর্দাই যেন সরে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের(ED) অভিযানের পর থেকেই সংস্থাটিকে ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঠিক সেই আবহেই একটি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২১ সালে আই-প্যাক একটি রোহতক-ভিত্তিক সংস্থা থেকে ১৩.৫০ কোটি টাকার অনিরাপদ ঋণ পেয়েছিল। এই তথ্য উঠে আসে রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজে জমা দেওয়া আই-প্যাকের নথি থেকে। সেখানে ঋণদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয় ‘রামসেতু ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন্ডিয়া (পি) লিমিটেড’-এর নাম ও ঠিকানা। কিন্তু এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই শুরু হয় একাধিক প্রশ্ন—এই সংস্থার অস্তিত্ব আদৌ আছে কি না, তা নিয়েই।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উল্লিখিত রোহতক ঠিকানায় গিয়ে কোনও সংস্থার কার্যকলাপের প্রমাণ মেলেনি। আরওসি নথি যাচাই করেও দেখা যায়, ‘রামসেতু ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন্ডিয়া (পি) লিমিটেড’ নামে কোনও কোম্পানি কখনও নিবন্ধিতই ছিল না। একই নামে একটি সংস্থা অবশ্য ছিল, কিন্তু সেটি ২০১৮ সালেই আরওসি-র দ্বারা বাতিল হয়। অর্থাৎ, আই-প্যাক যে সময়ে ঋণ পাওয়ার দাবি করেছে, তার প্রায় তিন বছর আগেই সেই সংস্থার আইনগত অস্তিত্ব শেষ হয়ে গিয়েছিল।

আরও জানা যায় ওই সংস্থার তালিকাভুক্ত শেয়ারহোল্ডারদের একাধিক জন জানিয়েছেন, তারা আই-প্যাককে কোনও ঋণ দেওয়ার বিষয়েই অবগত নন। এমনকি ২০২৫ সালের জুন মাসে আই-প্যাক আবারও নথিতে জানায়, ওই ঋণের এক কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি রয়েছে ১২.৫০ কোটি টাকা। কিন্তু একই নামে থাকা অন্য কোনও সংস্থার নথিতেও এই বিপুল অঙ্কের লেনদেনের উল্লেখ নেই।

আরও পড়ুনঃ ‘মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে ওরা!’, এসআইআর নিয়ে রেড রোডে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী মমতা!

এই আর্থিক প্রশ্নের মধ্যেই কলকাতা ও দিল্লির একাধিক জায়গায় আই-প্যাক সংশ্লিষ্ট স্থানে ইডির অভিযান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযানের বিরুদ্ধে সরব হন এবং একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেন। এখন শোনা যাচ্ছে, ইডি-র ডিরেক্টর রাহুল নবীন খুব শীঘ্রই কলকাতায় এসে এই মামলার অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। সব মিলিয়ে, আই-প্যাককে ঘিরে প্রশ্নের উত্তর এখনও বহু দূরে—আর সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য-রাজনীতির নজর।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles