“মদ খাব না আমরা?” লকডাউনেও সুরাপ্রেমীদের এই আজব দাবিতে হতবাক নেটিজেনরা

দেশে প্রবল গতিতে বাড়ছে করোনাভাইরাস। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় প্রবল চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার আর সেই সময়ই দেশজুড়ে ঝাঁপ খুলেছে মদের দোকানের। সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মদ কিনতে পথে নেমেছে সুরাপ্রেমীরা। ক্রেতাদের উৎসাহের ঠেলায় কোথাও লাঠি চালাতে হয়েছে পুলিশকে, তো কোথাও দোকান খোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বন্ধ করে দিতে হল। 

এহেন নির্লজ্জতা দেখে হতবাক সবাই। সুরাপ্রেমীদের উপর প্রবল ক্ষিপ্ত আমজনতার একটা বড় অংশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় মদের দোকানের বাইরের লাইনের ছবি দিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের প্রশ্ন, যারা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে মদ কিনতে পারে তাদের আদেও রেশনের প্রয়োজন আছে? অনেকেই ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যারা মদের দোকানে লাইন দিচ্ছে, তাঁদের চিহ্নিত করে রেশন দেওয়া বন্ধ করা হোক। যারা মদ কিনতে পারে, তারা চাল-আটাও কিনতে পারবে।’ 

আবার অনেকেই লিখেছেন, মদের দোকানে মদ কেনার সময় আধার কার্ড দেখানো বাধ্যতামূলক করা হোক। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই দেওয়া হোক হয় মদ, নয়তো রেশন।

সচেতন ভাবে কেনাকাটার দায়িত্ব যে সাধারণ মানুষকেই নিতে হবে, সে কথা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের সাংবাদিক বৈঠকে যদিও বিরোধীদের দাবি, সরকার অর্থনীতি বাঁচাতে গিয়ে মদের দোকান খুলে লোকজনকে করোনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আগেই বার্তা দিয়েছিলেন যে ‘জান’ এবং ‘জাহান’ দুইয়ের কথাই এ বার ভাবতে হবে। সেই মতো লকডাউনের তৃতীয় দফায় কনটেনমেন্ট জোন ছাড়া বাকি সর্বত্র মদের দোকান খোলায় সবুজসঙ্কেত দিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

দিল্লিতে বর্তমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে চার হাজারের বেশি, ৬৪ জনের মৃত্যুও হয়েছে। এখানে প্রায় ১৫০টি মদের দোকান খোলা হয়েছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা মেলেনি সামাজিক দূরত্বের। ঠাসাঠাসি করে লাইনে দাঁড়িয়েই চলে মদের অপেক্ষা।  দেশবন্ধু গুপ্তা রোডের কাছে তো দোকানের বাইরে ভিড় ছোটখাটো জমায়েতের চেহারা নেয়! এলাকার এক বাসিন্দা আতঙ্কিত হয়ে সে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে থাকেন। যে শহরে ৯০টির বেশি কনটেনমেন্ট জোন রয়েছে, সেই শহরের এই ছবি রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

 এ দিন যদিও দিল্লি সরকার ও রাজ্য বিজেপির মধ্যে টানাপোড়েনও শুরু হয়ে গিয়েছে। দিল্লি বিজেপির বক্তব্য, মদের দোকান বন্ধ করুন কেজরি। পাল্টা আপ সরকারের প্রশ্ন, খোলার নির্দেশ কে দিয়েছে? এরই মধ্যে লাভ বাড়াতে ও ভিড় কমাতে মদের উপর ৭০ শতাংশ কর বসিয়েছে দিল্লি। কিন্তু তাতেও বোধোদয় হয়নি কারোর। মদের ওই অতিরিক্ত করকে ‘দেশের জন্য দান’ বলে উল্লেখ করেছেন সুরাপ্রেমীরা।

এদিন পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, ‘মদের দোকান খোলা নিয়ে আলাদা করে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকার বলেছিল, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নয় এমন দোকানও খোলা হবে। তখন পানীয়ের দোকান কি করে বন্ধ রাখা হবে? আমরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বলা হয়েছে সামাজিক দূরত্ব ও লকডাউনের শর্ত মানতে হবে। রেশন দোকান যেমন করেছে।’ 

আরও অন্যান্য খবর