ডিজিটাল জগতের দ্রুত বৃদ্ধি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা এবং বেআইনি কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন তীব্রভাবে সামনে এসেছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে, যা ফেব্রুয়ারি মাসেই কার্যকর হবে। নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি সমস্ত কনটেন্টে (Synthetic Content) অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে, যাতে ব্যবহারকারীরা সহজে বুঝতে পারেন এটি প্রকৃত কনটেন্ট নয়।
সংশোধিত আইনে আরও বলা হয়েছে, যদি আদালত, পুলিশ বা সরকারি কর্তৃপক্ষ কোন ডিপফেক ভিডিও বা বেআইনি কনটেন্ট চিহ্নিত করে সরানোর নির্দেশ দেয়, তবে সমাজমাধ্যম সংস্থাগুলিকে তা মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে সরাতে হবে। আগে এই সময়সীমা ছিল ৩৬ ঘণ্টা। ইউটিউব, মেটা বা এক্সের মতো সংস্থাগুলির ওপর এখন আরও চাপ পড়বে। এছাড়াও, অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য সংস্থাগুলিকে সাত দিনের সময় দেয়া হবে, জরুরি ক্ষেত্রে তা ৩৬ ঘণ্টা এবং বিশেষ ক্ষেত্রে দুই ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
আইন অনুযায়ী, প্রতারণা, শিশু নিগ্রহ, যৌন হেনস্থা বা অপরাধে প্ররোচনা দেওয়া কৃত্রিম কনটেন্ট বেআইনি ধরা হবে। তবে শিক্ষামূলক বা শিল্পকর্মের জন্য তৈরি কনটেন্টকে ‘সিন্থেটিকালি জেনারেটেড’ হিসেবে গণ্য করা হবে না। কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক জানিয়েছে, আইন অমান্য করলে ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নিয়মিত সতর্কতার জন্য সমাজমাধ্যম সংস্থাগুলিকে প্রতি তিন মাস অন্তর ব্যবহারকারীদের মনে করিয়ে দিতে হবে যে বেআইনি কনটেন্ট শেয়ার করলে তাদের অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ হতে পারে বা জরিমানা ও জেল হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এআই প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, প্রযুক্তি যেমন উন্নত হয়েছে, তেমনই এর সঙ্গে দায়িত্বশীল ব্যবহার অপরিহার্য। এ জন্য আইন প্রণয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সমাধানের কথাও ভাবা হয়েছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেআইনি, প্রতারণামূলক বা শিশু নিগ্রহকারী কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ Vande Mataram: সব সরকারি অনুষ্ঠানে বাজবে ছয় স্তবকসহ ‘বন্দে মাতরম’—দেশপ্রেম জাগাতে কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ!
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংশোধিত আইনের মাধ্যমে দেশে এআই কনটেন্টের অপব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এটি শুধু প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয়, সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। সমাজমাধ্যমে শেয়ার করা প্রতিটি কনটেন্টের দায়িত্ব নিতে হবে ব্যবহারকারীকে, এবং আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে প্ল্যাটফর্মগুলোকে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তন আশা করা যাচ্ছে।






