বিশ্বজুড়ে ক্যান্সার একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানা ধরনের ক্যান্সার প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। গবেষণার পরিসংখ্যান বলছে, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। আধুনিক জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস, দূষণ, তামাক ও অ্যালকোহল সেবনের ফলে এই রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে স্তন, জরায়ু ও ওভারি ক্যান্সার মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি সত্ত্বেও ক্যান্সারের প্রতিরোধ ও নিরাময়ের পথ এখনও সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়। অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপি ক্যান্সার চিকিৎসার প্রচলিত উপায় হলেও এদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও যথেষ্ট বেশি। তাই বিজ্ঞানীরা এমন এক সমাধান খুঁজছেন যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এবং আগেভাগেই রোগ প্রতিরোধ করবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যাকসিন প্রযুক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
ভারত এবার ক্যান্সার চিকিৎসায় যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্যান্সার প্রতিরোধে একটি নতুন ভ্যাকসিন আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব জানিয়েছেন, এই ভ্যাকসিন আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে বাজারে আসবে। মূলত ৯-১৬ বছর বয়সী মেয়েরা এই টিকা নিতে পারবে, যা ভবিষ্যতে ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ভ্যাকসিনের পাশাপাশি, সরকার ক্যান্সার শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার জন্য আরও কিছু বড় উদ্যোগ নিচ্ছে। ৩০ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, সরকার ডে-কেয়ার ক্যান্সার কেন্দ্র তৈরি করবে, যাতে রোগ প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়। এছাড়াও, ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত বেশ কিছু ওষুধের শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই চিকিৎসা পেতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ ডাক্তারের কাছে মাঝরাতে ভয়ংকর অনুরোধ! ‘শাশুড়িকে শেষ করতে চাই’, এরপর যা ঘটল, অবিশ্বাস্য!
এই ভ্যাকসিন মূলত স্তন, মুখ ও জরায়ুর ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর হবে। এটি ইমিউনোথেরাপির একটি অংশ, যা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ক্যান্সার কোষগুলিকে ধ্বংস করতে সাহায্য করবে। ক্যান্সার ভ্যাকসিন সাধারণত দুই ধরনের হয়—প্রিভেনটিভ ও থেরাপিউটিক। প্রিভেনটিভ ভ্যাকসিন ক্যান্সার হওয়ার আগেই প্রতিরোধ করে, যেখানে থেরাপিউটিক ভ্যাকসিন টিউমার কমাতে ও ক্যান্সারের বিস্তার রোধে ব্যবহৃত হয়। যদিও এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে, তবে এটি ক্যান্সার চিকিৎসায় একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।






