পশ্চিমবঙ্গে (west bengal)স্বাস্থ্যসেবার চিত্র বহুদিন ধরেই প্রশ্নের মুখে। শহর হোক বা গ্রাম, সরকারি হাসপাতালগুলির হাল দেখে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কখনও বেডের অভাবে মাটিতে শুয়ে থাকতে হচ্ছে মুমূর্ষু রোগীদের, কখনও আবার বিনা চিকিৎসায় ধুঁকতে হচ্ছে হাসপাতালের বাইরেই। চিকিৎসার নামে শুধুই প্রতিশ্রুতি, অথচ বাস্তবে পরিষেবা পাওয়া যেন স্বপ্ন। এই বাস্তবতা আরও একবার সামনে এল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের চিত্র দেখে।
রোগী হাসপাতালে যাবে, চিকিৎসা হবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবে কি তাই? একাধিক অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের গাফিলতিতে কত রোগী বিনা চিকিৎসায় প্রাণ হারাচ্ছেন, তার কোনও হিসেব নেই। সরকারি খাতায় ‘পরিকাঠামো উন্নয়নের’ কথা থাকলেও, বাস্তবে বেডের অভাবে বহু রোগী হাসপাতালের মেঝেতে পড়ে থাকছেন। পরিবারের লোকজন ডাক্তার-নার্সদের কাছে কাতর অনুরোধ করলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উত্তর আসে— “জায়গা নেই!”
এই পরিস্থিতি যে নতুন নয়, তার প্রমাণ মিলেছে একাধিকবার। রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে এমন খবর প্রায়ই সামনে আসে। কিন্তু এবার যা ঘটল, তা যেন সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেল। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের নির্মীয়মাণ ভবনের সিঁড়ির নিচে এক মুমূর্ষু রোগী পড়ে রয়েছেন! চিকিৎসার বদলে তাঁকে ফেলে রাখা হয়েছে অযত্নে, অবহেলায়। চারপাশে আবর্জনার স্তূপ, মাটিতে পড়ে রয়েছেন তিনি, কিন্তু হাসপাতালে তাঁর জন্য কোনও জায়গা নেই!
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দা প্রশান্ত রায় বলেন, “ওই মহিলাকে বহুদিন ধরে এলাকায় বসে থাকতে দেখেছি। শরীর ভালো নয়, তাই হাসপাতালে আনা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে এনে চিকিৎসা না করানো হলে, আর কী লাভ?” অথচ, হাসপাতালের ফ্যাকাল্টি ম্যানেজার শ্যামল চক্রবর্তী বলেন, “আমরা তাঁকে ফেলে রাখিনি, পরিবারের লোকেরাই তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। পরে আমরা তাঁকে ভিতরে নিয়ে এসেছি, চিকিৎসাও শুরু হয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ ক্যান্সার মুক্ত ভবিষ্যতের পথে ভারত! মহিলাদের জন্য আসছে বিশেষ ভ্যাকসিন!
অতীতেও এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের অবহেলা, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মতো ঘটনাও সামনে এসেছে। অথচ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁদের কোনও দায় নেই! প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এই ধরনের ঘটনা বারবার কেন ঘটছে? সাধারণ মানুষ কি কোনওদিনও সঠিক চিকিৎসা পাবেন না? এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে কবে?





