বিশ্ব রাজনীতিতে এখন বাণিজ্যই অন্যতম শক্তি। কোন দেশ কার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে, তা শুধু অর্থনীতিই নয়—ভবিষ্যৎ কূটনীতির দিশাও ঠিক করে দিচ্ছে। ইউরোপ ও আমেরিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তির পর এবার ভারতের নজর ঘুরল পশ্চিম এশিয়ার দিকে। এমন এক অঞ্চলের দিকে, যাদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নতুন নয়, বরং ইতিহাসের বহু স্তরে গাঁথা। এই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এল উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরিন—এই ছ’টি দেশকে নিয়ে গঠিত উপসাগরীয় সহযোগিতামূলক পর্ষদ বা গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)। দীর্ঘদিন ধরেই এই জোটের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চলেছে। তবে এবার সেই সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হল। সম্প্রতি নয়াদিল্লি ও জিসিসি-র মধ্যে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার মূল লক্ষ্য একটি বৃহৎ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোনো।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪–’২৫ অর্থবর্ষে ভারত ও জিসিসি দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছুঁয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই বিপুল অঙ্কই ইঙ্গিত দিচ্ছে সম্ভাবনার ব্যাপ্তি কতটা। আলোচ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে ভারতের পণ্য এই ছ’টি দেশে শুল্ক ছাড়াই রপ্তানি করা যাবে। ফলে ভারতীয় কৃষিপণ্য, ওষুধ, টেক্সটাইল ও শিল্পজাত পণ্যের বাজার আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার জিসিসি-র সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়েছে। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি মনে করিয়ে দেন, পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের সঙ্গে এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ভারত যেখানে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে অন্যতম অগ্রগণ্য দেশ, সেখানে জিসিসি দেশগুলি মূলত তেল ও গ্যাস রপ্তানির উপর নির্ভরশীল। ফলে এই চুক্তি হলে দু’পক্ষই সমানভাবে লাভবান হবে।
আরও পড়ুনঃ Kolkata : গড়িয়ার নামী পুজো কমিটির অফিসে হঠাৎ তাণ্ডব! আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে খুনে*র হুমকিতে চাঞ্চল্য দক্ষিণ কলকাতায়!
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রসংঘের উপদেষ্টা জেফ্রি স্যাক্সের মতে, শুধুমাত্র আমেরিকার বাজারের উপর নির্ভরশীল না থেকে ভারতের বিকল্প পথ খোঁজাই বুদ্ধিমানের কাজ। উপসাগরীয় অঞ্চল ভারতের জন্য একটি বড় এবং স্থিতিশীল বাজার হতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চিন ও পশ্চিম এশিয়া—এই সব অঞ্চলের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে বাণিজ্য বাড়াতে পারলে ভারতের অর্থনীতি আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড়াবে। সেই দিক থেকেই জিসিসি-র সঙ্গে এই সম্ভাব্য চুক্তিকে ভবিষ্যতের বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।





