কলকাতা শহরের একাধিক নামী পুজো কমিটিকে ঘিরে মাঝেমধ্যেই ওঠে নানা অভিযোগ, তৈরি হয় উত্তেজনা। ঠিক তেমনই এক ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সরগরম হয়ে উঠল দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া এলাকা। ব্যস্ত অফিস টাইমে বড় রাস্তার ধারে অবস্থিত একটি পুজো কমিটির অফিসে হঠাৎ ঘটে যাওয়া তাণ্ডব ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকাজুড়ে।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু গড়িয়া মিতালি সংঘের নবদুর্গা পুজো কমিটি। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ কয়েকজন দুষ্কৃতী আচমকাই ক্লাব অফিসে ঢুকে পড়ে। তখন অফিসের ভিতরে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সদস্য ও কর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে বচসা শুরু হলেও মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। অফিসের ভিতরে ভাঙচুর শুরু হয়, আতঙ্কে অনেকেই বাইরে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন। প্রকাশ্য রাস্তায় এমন ঘটনার জেরে স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ক্লাব কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, দুষ্কৃতীরা অফিসের মেঝের টালি ভেঙে দেয়, দেওয়াল থেকে খুলে আছড়ে ফেলা হয় ফ্যান। শুধু তাই নয়, আলমারি ভেঙে সেখানে রাখা নগদ টাকা ছিনতাই করা হয়েছে বলেও দাবি। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ক্লাবের সদস্যদের খুনের হুমকি দেওয়া হয়। আচমকা এই হামলায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন অনেকেই। ঘটনার পরই বিষয়টি জানানো হয় স্থানীয় থানায়।
এই ঘটনার নেপথ্যে কারা, তা নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। গড়িয়া নবদুর্গা পুজো কমিটির অভিযোগ, গাঙ্গুলি গ্রুপের প্রোমোটার অমিত গঙ্গোপাধ্যায় লোকজন দিয়ে এই হামলা করিয়েছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু বিষয় নিয়ে চাপানউতোর চলছিল। ঘটনার রাতেই নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পুজো কমিটি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুনঃ West Bengal Budget : রাজ্যপালের হঠাৎ কক্ষত্যাগে অস্বস্তিতে সরকার? শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবি ঘিরে বাজেটের আগে উত্তেজনা চরমে!
তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন অমিত গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। গাঙ্গুলি গ্রুপের আরেক ব্যবসায়িক পার্টনার সন্দীপ প্রামাণিকও একই সুরে অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই। আপাতত এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এলাকার শান্তি বজায় রাখতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। পুজোর মুখে এমন ঘটনার জেরে গড়িয়ার জনপ্রিয় এই পুজো কমিটিকে ঘিরে প্রশ্নের মুখে পড়েছে অনেক কিছুই। তদন্তই বলবে, আসলে এই তাণ্ডবের নেপথ্যে সত্যিটা ঠিক কী।





