বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বরাবরই উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যু দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাতের কারণ। ১৯৪৭ সালের পর থেকে একাধিকবার এই বিষয় নিয়ে উত্তপ্ত হয়েছে উপমহাদেশের রাজনৈতিক আবহ। সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে কঠোর মন্তব্য উঠে এসেছে। এতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে দুই দেশের মধ্যে। শুধু ভারত-পাকিস্তান নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও এই ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী কূটনৈতিক মঞ্চ রাষ্ট্রপুঞ্জ (United Nations)। যেখানে প্রতিটি দেশের প্রতিনিধি নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন। পাকিস্তান বহু বছর ধরেই এই মঞ্চকে ব্যবহার করে কাশ্মীর নিয়ে নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু এবার পাকিস্তানের সেই প্রচেষ্টা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়ার সামনে। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) বৈঠকে ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। পাকিস্তানের যে কোনও দাবি অবৈধ ও ভিত্তিহীন।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ফের কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করা হয়। পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারত জম্মু ও কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে এবং সেখানকার জনগণের স্বাধীনতা হরণ করছে। এই অভিযোগ তুলতেই কড়া জবাব দেন রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্ভাথানেনি হরিশ (Parvathaneni Harish)। তিনি স্পষ্ট বলেন, “কাশ্মীর ভারতেরই ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। পাকিস্তানের প্রতিটি দাবি অবৈধ এবং তা আন্তর্জাতিক মহল কখনোই মান্যতা দেয়নি।”
ভারতীয় প্রতিনিধি আরও বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি পাকিস্তান বারবার রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চকে ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। তাদের উচিত নিজেদের দেশ সামলানো, যেখানে সন্ত্রাসবাদীরা নিরাপদ আশ্রয় পায় এবং সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে বেড়ে ওঠে।” তিনি স্পষ্ট করেন, ভারত এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় সময় নষ্ট করবে না। বরং পাকিস্তানকে সতর্ক করে জানান, অবৈধভাবে দখল করা ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে তাদের সরে আসতে হবে।
আরও পড়ুনঃ রাস্তায় নামলেই ঝরছে ঘাম, আবারও তীব্র দাবদাহের কবলে শহর! মিলবে কি স্বস্তি?
রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চ থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন ভারতীয় প্রতিনিধি। তিনি বলেন, “পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের একটি বড় অংশ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। এটা তাদের নিজের জমি নয়, বরং ভারতীয় ভূখণ্ড। তাদের এই অবৈধ দখলদারি চিরকাল চলতে পারে না। একদিন না একদিন তাদের এই অংশ ছাড়তেই হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের উচিত পাকিস্তানের এই মিথ্যা প্রচারের ফাঁদে না পড়ে বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়ে ফিরে আসা।”
ভারতের এই কড়া বার্তার পর রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে কার্যত চুপ হয়ে যায় পাকিস্তান। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তান এখন ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। অন্য দেশগুলিও ভারতের এই অবস্থানকে সমর্থন করছে। বিশেষ করে, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের একাধিকবার ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর, তাদের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা কমেছে। বরং ভারত নিজের কূটনৈতিক শক্তি বাড়িয়ে তুলছে এবং কাশ্মীর নিয়ে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করছে। পাকিস্তান যতই কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আওয়াজ তুলুক না কেন, বাস্তব সত্য হলো— কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।





