CAA পাশ হলেও ভোটাধিকার নেই! বাংলায় হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাম কেটে দিচ্ছে প্রশাসন? বিজেপির বিস্ফোরক অভিযোগ!

নির্বাচন মানেই উত্তেজনা, দলীয় কৌশল এবং ভোটব্যাংকের হিসাব-নিকাশ। বাংলার রাজনীতি বরাবরই ছিল সংঘাতের মঞ্চ, যেখানে প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই ভোটারদের প্রভাব রাজনৈতিক দলগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করে। তাই ভোটের মরসুম এলেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজেদের ভোটব্যাংক সংহত করতে নানা কৌশল গ্রহণ করে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তার ব্যতিক্রম নয়। রাজ্যে বিজেপি বনাম তৃণমূলের লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে, রাজ্যের শাসকদল তাদের সংগঠন মজবুত করতে ব্যস্ত, অন্যদিকে, বিরোধী দল বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় তাদের শক্তি বৃদ্ধি করতে তৎপর। এমতাবস্থায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে, যা বাংলার রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিজেপির দাবি, উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা এবং নদিয়ার কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লকে পরিকল্পিতভাবে হিন্দু ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত, যারা একসময় বাংলাদেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে এসেছিলেন, তাদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিজেপির অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা হচ্ছে। দলীয় সূত্রের খবর, এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপ চাইতে দিল্লি গিয়েছিলেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সোমবার সংসদ ভবনে শাহের দফতরে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। বৈঠকে সুকান্ত বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং অভিযোগ জানান যে, রাজ্যে একপাক্ষিকভাবে হিন্দু উদ্বাস্তুদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে তুলোধোনা ভারতীয় দূতের! ‘কাশ্মীর ভারতেরই ছিল, থাকবে…’

বিজেপির আরও দাবি, এই উদ্বাস্তুদের বৈধতা দিতে কেন্দ্র ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) পাশ করেছিল। এরপর তা দেশজুড়ে কার্যকর হয়। কিন্তু তারপরও ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যা আইনবিরুদ্ধ। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ইন্ধন থাকতে পারে।এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও সরব হয়েছেন। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “বিজেপি কোনও অবস্থাতেই এই অন্যায় বরদাস্ত করবে না। সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে দিল্লিতে বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” বিজেপি সাংসদদের একটি দল শীঘ্রই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারেন বলেও জানা গেছে।

সোমবার বিকেলে প্রায় ১৫ মিনিটের সংক্ষিপ্ত বৈঠকে সুকান্ত মজুমদার অমিত শাহের কাছে অভিযোগ জানান যে, পশ্চিমবঙ্গে পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি সূত্রে খবর, শাহ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে তদন্তের ব্যবস্থা করা হতে পারে। এই ইস্যুতে তৃণমূল এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এই বিতর্ক আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিজেপি যদি এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী প্রচার চালায়, তাহলে তা বাংলার ভোটের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles