কেরলে অনেক এগিয়ে কংগ্রেস, মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই সহ সিপিএমের ১৪ মন্ত্রী পিছিয়ে। ভোট গণনার প্রাথমিক প্রবণতায় রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্রে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত মিলছে। ১৪০টি বিধানসভা আসনের মধ্যে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ইতিমধ্যেই ৯০-এর বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে বামফ্রন্ট এলডিএফ অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন নিজ কেন্দ্রেও পিছিয়ে রয়েছেন, যা রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
গণনার শুরু থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে এই লড়াই একতরফা দিকে এগোচ্ছে। ইউডিএফ যেভাবে একের পর এক আসনে লিড বাড়াচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে জনতার মুড এইবার সম্পূর্ণ আলাদা। বামেদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত অনেক এলাকাতেও এবার ভাঙন দেখা যাচ্ছে। কংগ্রেসের পাশাপাশি তাদের শরিকরাও ভালো ফল করছে, বিশেষ করে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন অফ মুসলিম লিগের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের দিক থেকেই। নিজের কেন্দ্রেই তিনি পিছিয়ে পড়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী ভিপি আব্দুল রশিদের কাছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের ১৪ জন মন্ত্রীও পিছিয়ে রয়েছেন, যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে এই হার শুধুমাত্র আংশিক নয়, বরং সংগঠনের ভিত নড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় সংখ্যায় মন্ত্রীদের পিছিয়ে পড়া মানে সরকারের প্রতি জনতার আস্থা কমে যাওয়া।
এই পরিস্থিতিতে আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে পিনারাই বিজয়নের একটি পদক্ষেপ ঘিরে। ভোট গণনার আগের রাতেই তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয় সরিয়ে দেন। বিরোধীরা তো বটেই, দলের ভেতর থেকেও এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, এতে কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, লড়াই শেষ হওয়ার আগেই কি হাল ছেড়ে দিলেন তিনি?
আরও পড়ুনঃ দুশ্চিন্তায় টলিউড! কাল ফল ঘোষণা, টলিপাড়ায় টানটান উত্তেজনা! শুটিং ফ্লোরে ক্যামেরা চলবে নাকি পড়বে তালা? বাংলার রাজনৈতিক ফলাফলের প্রভাব কি পড়বে বিনোদন জগতে?
কেরলের এই ফলাফল শুধু একটি রাজ্যের পরিবর্তন নয়, বরং দেশের বাম রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। যদি কেরলের মতো শক্ত ঘাঁটিতেই বামেদের এই অবস্থা হয়, তাহলে অন্য রাজ্যগুলিতে তাদের অস্তিত্ব টিকবে কীভাবে? অনেকেই মনে করছেন, এই ফলাফল বাম রাজনীতির জন্য বড় ধাক্কা হতে চলেছে। এখন দেখার, এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা বাম শিবির, নাকি এটি তাদের পতনের সূচনা হয়ে থাকবে।





