আগামীকাল ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফল প্রকাশ ঘিরে রাজ্যের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি টলিপাড়াতেও বাড়ছে উত্তেজনা। রবিবার থেকেই স্টুডিও পাড়া, মেকআপ রুম, ক্যাফেটেরিয়া এবং শুটিং ফ্লোরে একটাই আলোচনা ঘুরছে। ফল প্রকাশের দিন পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা নিয়ে সবার মধ্যেই কৌতূহল রয়েছে। ভোটের দিন যেভাবে শুটিং বন্ধ রাখা হয়েছিল, এবারও কি একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেক শিল্পী এবং কলাকুশলীর মধ্যেও রয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ ফল ঘোষণার দিন রাজনৈতিক আবহাওয়া বদলালে তার প্রভাব রাস্তাঘাট থেকে কাজের জায়গাতেও পড়তে পারে। তাই আগাম প্রস্তুতি নিয়েই ভাবনা শুরু করেছে ইন্ডাস্ট্রি। সব মিলিয়ে আগামীকাল সকাল থেকেই টলিপাড়ার নজর থাকবে দুই দিকেই।
প্রযোজনা সংস্থা ব্যানিয়ন ট্রিজের কর্ণধার শ্রীজিৎ রায় অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ে বেশ আশাবাদী। তাঁর মতে, ভোটের দিন রাজ্যে বড় কোনও অশান্তি দেখা যায়নি এবং গোটা প্রক্রিয়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি মনে করছেন ফল ঘোষণার দিনও স্বাভাবিক পরিবেশ থাকবে। তাই শুটিং বন্ধ রাখার কোনও কারণ তিনি দেখছেন না। তাঁর বক্তব্য, প্রতিদিনের মতোই নির্ধারিত সূচি মেনেই কাজ চলবে। ইউনিটের লোকজন, শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানরা সময়মতো সেটে পৌঁছে যাবেন বলেও তিনি আশা করছেন। কোনও বড় বাধা না এলে কাজ থামানোর পরিকল্পনা নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি। ফলে তাঁর সংস্থার তরফে আপাতত স্বাভাবিক কাজের বার্তাই দেওয়া হয়েছে।
পরিচালক কৃষ বসুও একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার সময়ও সব কাজ পুরোপুরি থেমে যায়নি। কিছু জায়গায় সমস্যা হলেও টলিপাড়ার কাজ চলেছিল নিজের গতিতেই। এবারও তিনি তেমনই আশা করছেন। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, শহরের বিভিন্ন জায়গায় যানজট বা বাড়তি নিরাপত্তার কারণে যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে। তবু দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় টেকনিশিয়ান এবং ইউনিট সদস্যরা এমন পরিস্থিতি সামলাতে অভ্যস্ত। তাই তিনি কাজ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, আগে থেকে পরিকল্পনা থাকলে বড় সমস্যা হবে না। ফলে শুটিং বন্ধের সম্ভাবনা খুব কম বলেই মনে করছেন তিনি।
অন্যদিকে অভিনেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ বিষয়টি নিয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তিনি জানান, শুটিং হবে কি না তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে প্রযোজনা সংস্থা থেকে ডাক এলে তিনি অবশ্যই কাজে যোগ দেবেন। তাঁর মতে, শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে ভালো পথ। অনেক সময় নিরাপত্তা, যাতায়াত বা ইউনিট সদস্যদের সুবিধার কথা ভেবে নতুন পরিকল্পনা করা হয়। তাই প্রযোজকরা বিকল্প ব্যবস্থাও রাখতে পারেন বলে তিনি মনে করছেন। কোথাও সময় বদল হতে পারে, কোথাও শিফট কমানোও হতে পারে। সব কিছুই নির্ভর করছে আগামীকালের বাস্তব পরিস্থিতির উপর।
অভিনেতা সোমরাজ মাইতিও এখনও নিশ্চিত নন আগামীকালের কাজ নিয়ে। তিনি বলেন, ভোটের দিন যেমন শুটিং বন্ধ ছিল, তেমন ফলের দিনেও কিছু পরিবর্তন হতে পারে। তবে ধারাবাহিকের এপিসোড জমা রাখার চাপ থাকায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনও রয়েছে। চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ রাখা সম্ভব নয়, তাই শুটিং চালানোর চেষ্টা থাকবে বলেই মনে করছেন তিনি। একদিকে রাজনৈতিক ফলাফলের উত্তেজনা, অন্যদিকে টেলিভিশন জগতের কাজের চাপ, দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে এখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় টলিপাড়া। কে জিতবে তা যেমন বড় প্রশ্ন, তেমনই শুটিং চলবে কি না সেটাও এখন সমান আলোচনায়। আগামীকাল সকালেই পরিষ্কার হবে ইন্ডাস্ট্রির আসল ছবি।⁹






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার