দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্য এর আগেই এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। এইবার সেই তালিকায় নাম জুড়ল মহারাষ্ট্রের। ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআইকে (CBI) প্রদান করা ‘জেনারেল কনসেন্ট’ প্রত্যাহার করে নিল উদ্ধব ঠাকরে প্রশাসন।
কি এই জেনারেল কনসেন্ট প্রত্যাহার?
এর অর্থ দাঁড়ায়, এবার থেকে আর ইচ্ছে করলেই মহারাষ্ট্রে গিয়ে যে কোনও মামলাতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্ত করতে হলে প্রত্যেকটি মামলার জন্য আলাদা আলাদা করে অনুমতি নিতে হবে রাজ্য সরকারের কাছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড় সিবিআই-এর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিয়েছিল।
বর্তমানে বিজেপি শিবসেনা সম্পর্ক প্রায় সাপে-নেউলে। কিন্তু একটা সময়ে এরাই ছিলেন জোট সঙ্গী। কিন্তু জোট ভাঙার পর পদ্ম শিবিরের বিরুদ্ধে চরম বিরোধিতা শুরু করে মহারাষ্ট্রের বর্তমান শাসক শিবির।
মহারাষ্ট্র সরকারের এই পদক্ষেপ গ্রহণের পিছনে মনে করা হচ্ছে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু মামলা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিতে প্রবল আপত্তি ছিল মুম্বই পুলিশের (Mumbai Police)। কিন্তু শেষমেশ কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে এই মামলার তদন্তভার গিয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে। একইভাবে পালঘর সাধুহত্যা-সহ একাধিক মামলায় সিবিআই এবং মহারাষ্ট্র সরকারের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি আরো জটিল হয় সাম্প্রতিকতম টিআরপি কেলেঙ্কারি (TRP Scam) সংক্রান্ত একটি মামলায়। ভুয়ো টিআরপি কেলেঙ্কারির কথা প্রথম প্রকাশ্যে আনে মুম্বই পুলিশ। অর্ণব গোস্বামীর রিপাবলিক টিভি এবং দুটি স্থানীয় টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে মামলা চলছে এই কেলেঙ্কারির অভিযোগে। এরই মধ্যে উত্তরপ্রদেশে টিআরপি কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের হয়েছে। যার তদন্তভার আবার গিয়ে পড়েছে সিবিআইয়ের হাতে।
মহারাষ্ট্র সরকারের ধারণা, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যদি পৃথকভাবে মহারাষ্ট্রে ঢুকে এই মামলার তদন্ত শুরু করে, তাহলে মুম্বই পুলিশের তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। সম্ভবত সেকারণেই সিবিআইকে দেওয়া জেনারেল কনসেন্ট প্রত্যাহার করে নিল মহারাষ্ট্র সরকার। এরপর আর অনুমতি ছাড়া কোনও মামলার তদন্তেই মহারাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।






