বলিউডের পর্দায় তিনি রোম্যান্সের রাজা, আর বাস্তব জীবনে তিনি এক সফল ব্যবসায়ী। শাহরুখ খান কেবল জনপ্রিয়তার নিরিখেই নন, সম্পদের বিচারে গিয়েও পৌঁছে গিয়েছেন এক অনন্য উচ্চতায়। হুরুন ইন্ডিয়ার ২০২৫ সালের ধনী ব্যক্তিদের তালিকা অনুযায়ী তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা, যা তাঁকে বিলিয়নেয়ার ক্লাবে জায়গা করে দিয়েছে। অভিনয়ের পারিশ্রমিক ছাড়াও বিজ্ঞাপন, প্রযোজনা সংস্থা ও বিভিন্ন বিনিয়োগ মিলিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন বিস্তৃত আর্থিক সাম্রাজ্য।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে সেলিব্রিটি ওয়েলথ ম্যানেজার দীপক হিরো ভাজিরানি জানান, শাহরুখের এই সাফল্য আকস্মিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ফল। তাঁর কথায়, শাহরুখ শুধু তারকা নন, তিনি ব্যবসা বোঝেন এবং নিয়মিত পড়াশোনা করে সিদ্ধান্ত নেন। একসময় মাত্র ১৮ কোটি টাকায় কেনা তাঁর বাড়ি মন্নত আজ প্রায় ৩০০ কোটির সম্পদ। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
ক্রিকেটের ময়দানেও তাঁর উপস্থিতি সমান শক্তিশালী। আইপিএল শুরুর সময় তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের ৫৫ শতাংশ শেয়ার কিনেছিলেন প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে। আজ সেই ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল্য বহুগুণ বেড়েছে। শোনা যাচ্ছে, তিনি আরও বড় অংশীদার হওয়ার কথাও ভাবছেন, যার সম্ভাব্য মূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা। চলচ্চিত্র নির্মাতা করণ জোহর এক আলোচনায় বলেন, শাহরুখ শুধু নাম ব্যবহার করেননি, বরং পরিকল্পনা ও কৌশল দিয়ে দলটিকে সফল করেছেন।
এদিকে ব্যক্তিগত জীবনেও চলছে পরিবর্তন। মন্নতে সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় শাহরুখ ও তাঁর পরিবার আপাতত মুম্বইয়ের পালি হিলে একটি চারতলা অ্যাপার্টমেন্টে থাকছেন, যার মাসিক ভাড়া প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা। পরিবারের কর্মীদের থাকার জন্য তাঁর স্ত্রী গৌরী খান কাছেই আরও একটি সম্পত্তি ভাড়া নিয়েছেন। এই সাময়িক স্থানান্তর হলেও রাজকীয় জীবনযাত্রায় কোনও কমতি নেই।
আরও পড়ুনঃ Israel war*ns Iran : ইরানে নেতৃত্ব বদলের জল্পনা চরমে, তার মধ্যেই তেহরানকে কড়া বার্তা— পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতাকেই টার্গে*ট করার খোলাখুলি ঘোষণা ইজ়রায়েলের!
২০২৪ সালের নভেম্বরে মহারাষ্ট্র কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট অথরিটির কাছে মন্নতের অ্যানেক্সে আরও দুটি তলা যোগ করার আবেদন করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ভবনের পেছনের অংশে প্রায় ৬১৬ বর্গমিটার জায়গা বাড়ানো হবে। যেহেতু এটি একটি সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি, তাই প্রতিটি পরিবর্তনের জন্য সরকারি অনুমোদন জরুরি। সংস্কারের আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে পর্দার বাদশা বাস্তব জীবনেও যে দূরদর্শী সম্রাট, তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।






